প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   আগামী সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হবে।নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুসারে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি চারটি, ঐক্যফ্রন্ট একটি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে দুটি আসন পাবে। তবে এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের নজির নেই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পরই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা হয়ে থাকে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছে ২৫৬টি আসন আর মহাজোটগতভাবে তাদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। এ ছাড়া ১৪ দলীয় জোটের দলগুলোর মধ্যে জাসদ দুটি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, বিকল্পধারা দুটি এবং তরীকত ফেডারেশন একটিতে জিতেছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে জাসদের অনিবন্ধিত অংশের মইন উদ্দীন খান বাদলও একটি আসনে পেয়েছেন। এর বাইরে আওয়ামী লীগের মিত্র দল জাতীয় পার্টি (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকে একটি আসনে জিতেছে। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি ছয়টি এবং গণফোরাম দুটি আসন পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন তিনটি আসন।নির্বাচন কমিশন সচিব গতকাল বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুসারে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি চারটি, ঐক্যফ্রন্ট একটি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে দুটি আসন পাবে।’

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪’ অনুসারে এ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দলগুলোকে তাদের দল বা জোটভিত্তিক সংসদ সদস্যদের (এমপি) তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা যদি কোনো রাজনৈতিক দলে বা জোটে যোগ না দেন, তাহলে তাঁরা নিজেরাই কোনো স্বতন্ত্র নামে নির্দলীয় জোট গঠন করতে পারবেন বলেও বিধানে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন গত ২ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করে। সে হিসাবে আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলগুলোর জন্য নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে জোট বা দলের সংসদ সদস্যদের তালিকা জমা দেওয়ার সময় রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের দশম সাধারণ নির্বাচনের পর ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করে। তখন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৪ মার্চ, মনোনয়নপত্র বাছাই ৬ মার্চ এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। আর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৯ মার্চ। সে সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের লক্ষ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ছয়টি দল নিয়ে জোট গঠন করে। জোটের অন্য শরিকরা ছিল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় পার্টি জেপি, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

জাতীয় পার্টি এ নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরাও নিজেদের একটি জোট গঠন করেন। দশম সংসদে আওয়ামী লীগের ২৩৪ জন, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ৩৪ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ছয়জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) পাঁচজন, জাতীয় পার্টির (জেপি) দুজন, তরীকত ফেডারেশনের দুজন, বিএনএফের একজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ১৬ জন নির্বাচিত হন। ওই সময় ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যানুপাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট ৪১টি, জাতীয় পার্টি ছয়টি ও স্বতন্ত্র জোট তিনটি আসন লাভ করে। পাঁচ বছর আগের ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবিহা নাহার বেগম ও জাতীয় পার্টির খোরশেদ আরা হক বিলখেলাপি থাকায় মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়েন। এর ফলে প্রথমে ৪৮টি আসনে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। পরে পুনর্নির্বাচনে ওই দুজনও নির্বাচিত হন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালের সংবিধানে পরবর্তী ১০ বছরের জন্য সংসদে নারীদের জন্য ১৫টি আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়। ১৯৭৮ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে পরবর্তী ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৩০-এ উন্নীত করা হয়। ১৯৯০ সালে সংবিধান সংশোধন (দশম সংশোধন) করে পরবের্তী ১০ বছরের জন্য জাতীয় সংসদে ৩০টি নারী আসন সংরক্ষিত রাখার বিধান রাখা হয়। ওই সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে ২০০০ সালে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিলুপ্তি ঘটে এবং সে সময় সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে যাঁরা বহাল ছিলেন, তাঁদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০০০ সালে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ২০০১ সালের অক্টোবরে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোনো আসন ছিল না। ২০০৪ সালের মে মাসে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদের ৪৫টি নারী আসন আরো ১০ বছরের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ওই বছরের ২৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনী বিল পাস হয়। একই সঙ্গে আগের ব্যবস্থা পাল্টে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর প্রাপ্ত আসন অনুপাতে সংরক্ষিত মহিলা আসন বণ্টনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের জন্যই এ আসন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষমতাসীন দলই সব কটি আসন পেত।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এই আইন অনুসারে এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদের শেষ দিকে এবং নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদের প্রথম দিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এরপর নবম জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করা হয় এবং গত বছর ১৮ জুলাই সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত এই সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।