প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  বিনোদন ভুবনে বর্তমান সময়ে ‘ওয়েব সিরিজ’ অতি পরিচিত নাম। চলচ্চিত্র বা নটক নির্মাণ করে ইন্টারনেটের বিভিন্ন স্ট্রিমিং সাইটে প্রকাশ করা হয় বলে এর নামকরণ হয়েছে ওয়েব সিরিজ। হলিউডে নব্বইয়ের দশকে এর প্রচলন শুরু হলেও, একুশ শতকে ইন্টারনেটের ব্যাপকতায় জনপ্রিয় হয়ে উঠে ওয়েব সিরিজ।

 

 

 

ইউটিউব, নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজন প্রাইম-এর মতো বহু স্ট্রিমিং সাইট খুললেই ভুরি ভুরি ওয়েব সিরিজের দেখা মেলে।শুধু ইংরেজি নয়, বাংলা ও হিন্দি ভাষাভাষী দর্শকদের কাছেও ওয়েব সিরিজ হয়ে উঠছে অমৃতসম। সম্প্রচার সময়, বিজ্ঞাপন বিরতির বিড়ম্বনা এমনকি সেন্সরের ঝামেলা পোহাতে হয় না বলে নির্মাতারা ওয়েব সিরিজ নিয়েই আজকাল বেশী মাথা ঘামাচ্ছেন।

 

 

 

 

এসব কারণে দর্শকদের কাছেও বিষয়টি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চাইলেই দর্শক মুঠোফোনে কিম্বা ব্যক্তিগত কম্পিউটারে যখন খুশি দেখে নিতে পারেন।ওয়েব সিরিজের এমন জনপ্রিয়তা অভিনয়শিল্পীদেরও টানছে। মূল ধারার শিল্পিরাও আজকাল ওয়েব সিরিজে নাম লেখাচ্ছেন। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় তারকা ইতিমধ্যে ওয়েব সিরিজে নাম লিখিয়েছেন।

 

 

 

 

এই তালিকায় আছেন অভিনেত্রী পপি, আঁচল, পরীমনি, বিপাশা কবির, অভিনেতা আরফান নিশো, এ বি এম সুমনসহ বেশ কয়েকজন তারকা। সম্প্রতি ‘ইন্দুবালা’ নামের একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন চিত্র নায়িকা ‘পপি’। অন্যদিকে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘প্রীতি সমাচার’ নামে একটি ওয়েব সিরিজে দেখা যাবে নায়িকা পরিমণিকে। কেউ আবার আছেন উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায়।

 

 

 

 

শোনা যায়, অভিনেতা নিরবও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে আছেন।কলকাতার ওয়েব সিরিজগুলো পাল্লা দিয়ে চলেছে টেলিভিশন ধারাবাহিক ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে। বলা যায় রমরমা অবস্থা। দুপুর ঠাকুরপো, জাপানি টয়, হলি ফাঁক, কালি, ধানবাদ ব্লুজ, সেই যে হলুদ পাখি, হ্যালো, ব্যোমকেশ-এর মতো ওয়েব সিরিজগুলো ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যেখানে অভিনয় করতে দেখা গেছে পাওলি দাম, সব্যসাচী চক্রবর্তী, রাইমা সেন, প্রিয়াঙ্কা সরকার, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য-এর মতো মূল ধারার তারকাদের।

 

 

 

অন্যদিকে বলিউডে চলচ্চিত্রের পাশপাশি সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করছে অনলাইন বিনোদন। কিছু কিছু তারকা চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গিয়ে ওয়েব সিরিজে মনযোগী আবার কেউ আছেন বড় পর্দা ও ওয়েব সিরিজ দুটোই সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন। সেক্রেড গেমস, মির্জাপুর, ব্রিদ, লিটল থিংস, ইয়ে মেরে ফ্যামিলি, ঘাউল, স্মোক-এর মতো ওয়েব সিরিজগুলো বিভিন্ন অনলাইন স্ট্রিমিং সাইটে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

 

 

 

 

আর এসবে অভিনয় করেছেন সাইফ আলী খান, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, আর মাধবান, আলী ফজল, কাল্কি কোয়েচিন ও রাধিকা আপ্তের মতো তারকারা। শোনা যায় জুহি চাওলা, অনুপেম খের, রিচা চড্ডার মতো তারকারাও আছেন ওয়েব সিরিজের অপেক্ষায়। সর্বশেষ এই মাধ্যমে নাম লেখিয়েছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। ভারতীয় ঔপন্যাসিক বিলাল সিদ্দিকির ‘বার্ড অব ব্লাড’ অবলম্বনে নির্মিত হবে এটি। এতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যাবে ইমরান হাশমি ও ঋভু দাশগুপ্তকে।

 

 

 

 

অভিনয়ের পাশপাশি ওয়েব সিরিজটির প্রযোজনায় থাকছে শাহরুখের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট’।ওয়েব সিরিজের ব্যাপকতা প্রসঙ্গে কি ভাবছেন তারকারা? চিত্র নায়িকা পপি বলেন, ‘যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। ওয়েব কন্টেন্টের যুগ শুরু হয়ে গেছে। সব দেশেই তো হচ্ছে। ভালো কিছু হলে তো কাজ করতে আপত্তি নেই।’ আরেক নায়িকা আঁচল বলেন, ‘ সিনেমা হলে শাকিব খানের ছবি ছাড়া অন্যদের ছবি খুব একটা চলছে না। এমন অবস্থায় সিনেমার ঝুঁকি না নিয়ে ওয়েব সিরিজ করাই ভালো।’

 

 

 

 

 

অভিনেতা এ বি এম সুমনের মতে, মানুষ এখন হলে গিয়ে সিনেমা দেখার সময় পাচ্ছে না। ডিজিটাল যুগে সবকিছু এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। তাই কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই শুধুমাত্র ইন্টারনেটে থাকলেই অনলাইন কন্টেন্ট দেখার সুযোগ থাকছে।’কিছুদিন আগে কলকাতার অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল এক সাক্ষাৎকারে জানান, যেভাবে ওয়েব সিরিজের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, তাতে চলচ্চিত্র শিল্প ও টেলিভিশন ধারাবাহিকগুলো ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়বে।

 

 

 

 

 

তারকাদের কথা অনুযায়ী বলা যায়, যদি বিনোদনের মাধ্যমগুলো মানুষের মুঠোফোনে চলে আসে, তাহলে তো দর্শকশুন্য হয়ে পড়বে সিনেমা হল কিম্বা টেলিভিশন নাটক। তাহলে কি ভবিষ্যতে নাটক, সিনেমা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে আসবে? আর টেলিভিশন কিম্বা সিনেমা হলের বিলুপ্তি ঘটবে। এমন শঙ্কাও তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না।