প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গতকাল শুক্রবার ‘পাখি মেলা-২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন করি সবাই যত্ন’ শীর্ষক স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে গতকাল সকালে ‘পাখি মেলা-২০১৯’-এর উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। এ উপলক্ষে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করে।

 

 

 

 

 

 

 

উদ্বোধনী ভাষণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘পাখি সংরক্ষণের জন্যই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে পাখিদের বিরক্ত না করে, সেই বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ মেলার মাধ্যমে পাখি বিষয়ে সচেতনতার পাশাপাশি পাখি পরিচিতি ও পাখির জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।’প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখি মেলার আহ্বায়ক কামরুল হাসান বলেন, ‘সবাইকে পাখি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতন করতেই আমাদের এ উদ্যোগ। কেননা পাখি বায়োলজিক্যাল ইনডিকেটর, তাদের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি, পরিবেশ কেমন আছে। তারা ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকব।’

 

 

 

 

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মনজুরুল হক, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল জব্বার হাওলাদার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম মোস্তফা ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।দুই সন্তানকে নিয়ে পাখি মেলা দেখতে এসেছিলেন হোসনে আরা বেগম। তিনি বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে বাচ্চাদের নিয়ে সেভাবে কোথাও যাওয়া হয় না। এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে। বাচ্চারা খুবই খুশি।’আতিউর রহমান নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সব সময়ই আমাকে বিমোহিত করে। আমি এর আগেও বেশ কয়েকবার পাখি মেলায় এসেছি।’

 

 

 

 

 

 

দিনব্যাপী পাখি মেলায় অন্য আয়োজনের মধ্যে ছিল আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা ও পাখিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা।পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০০১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার এ মেলার আয়োজন করে আসছে।