প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   হিন্দু ধর্মকে বাঁচানোর জন্য প্রচুর মানুষ লাগবে। এজন্য হিন্দুদেরকে প্রচুর সন্তান জন্ম দিতে হবে। প্রয়োজন হলে দশটি করে সন্তান নিতে হবে। ভারতের নাগপুরে ‘ধর্ম সান্সত্রুক্তি মহাকুম্ভ’ নামে হিন্দু পণ্ডিতদের একটি সভাতে এই পরামর্শটি উঠে এসেছে। ভারতের একজন সুপরিচিত হিন্দু সন্ন্যাসী বাসুদেবানন্দ সরস্বতী প্রত্যেক হিন্দু দম্পতিকে অন্তত দশটি করে সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

 

 

তিনি আরো বলেছেন, ঈশ্বরই এই সন্তানদের দেখাশুনো করবেন।তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি দাবি জানান যেন ডিমানিটাইজেশনের মতো গো-হত্যার ব্যাপারেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন।দশ সন্তান নেওয়ার কথা বলতে গিয়ে বাসুদেবানন্দ বলেন, ‘দুই সন্তানের রীতি ত্যাগ করো। তার পরিবর্তে দশজন সন্তান নাও। কে খাওয়াবে সেটা নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করো।

 

 

 

 

 

ভগবান তোমার সন্তানদের দেখভাল করবে।’ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক আরএসএস এর পক্ষ থেকেই সঙ্ঘের সদর দফতর নাগপুর শহরে ওই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই স্বামী বাসুদেবানন্দ সরস্বতী বলেন, ভারতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ‘দুই সন্তান নীতি’ চালু করা হয়েছিল হিন্দুদের তা এবার প্রত্যাখ্যান করার সময় এসেছে।

 

 

 

 

‘ধর্ম সান্সত্রুক্তি মহাকুম্ভ’ নামে তিন দিনের ওই সম্মেলনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও হিন্দু ধর্মের প্রভাব হ্রাস কীভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা। ওই সম্মেলনে আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত এবং সঙ্ঘ পরিবারের আর একটি সহযোগী সংগঠন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীন টোগাডিয়াও উপস্থিত ছিলেন।তিন দিনের সেই সম্মেলনে বিভিন্ন সময়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশ, আসামের রাজ্যপাল বানোয়ারিলাল পুরোহিত বা নাগপুর শহরের মেয়র প্রবীন ডাটকের মতো ভিআইপিরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ভারতে হিন্দুদের আনুপাতিক জনসংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে- অথচ অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।সঙ্ঘ পরিবারের নেতারা অতীতেও অনেকবার হিন্দুদের বেশি বেশি করে সন্তান জন্ম দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন- তবে তাতে যে খুব একটা সাড়া মিলেছে পরিসংখ্যান কিন্তু সে কথা বলে না!

সূত্র: টাইমস্ অব ইন্ডিয়া