প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, বিশ্বের অনেক দেশের গোপন বিষয়েই নাক গলিয়েছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বেসরকারি সংস্থা উইকিলিকস। ২০০৬ সালের ৪ অক্টোবর সংস্থাটি গঠনের পরপরই বিশ্বের নানা গোপনীয় তথ্য ফাঁস করে সাড়া ফেলে দেয়। সেসব ফাঁসকৃত নথির তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও।

 

 

 

 

 

এসব তথ্যের ভাণ্ডারে ইউএফও বিশ্বাসীদের জন্যও রয়েছে নানা চমক। কেননা, এই বিষয়ে মার্কিন সরকারের বেশ কিছু গোপন তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে সংস্থাটি। এসব তথ্যের মধ্যে অন্যতম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি’র হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। উইকিলিকসের ফাঁসকৃত তথ্য বলছে, প্রয়াত প্রেসিডেন্টের ওই পরিণতির পেছনে ইউএফও’র সম্পর্ক ছিল। এমনকি তার বন্ধু বলে পরিচিত বিখ্যাত হলিউড তারকা মেরিলিন মনরো’র হত্যার পেছনেও যোগসূত্র ছিল একই।

 

 

 

 

 

 

উইকিলিকসের ফাঁসকৃত তথ্য বলছে, নিহত হওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে জন এফ কেনেডি তৎকালীন সিআইএ (Central Intelligence Agency)এর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের প্রধান জেসাস এঙ্গেলেটনকে ইউএফও বিষয়ে নমনীয় হতে বলেছিলেন। অর্থাৎ নিউ মেক্সিকোর রজওয়েলে বিধ্বস্ত ইউএফও’র আংশিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশের ইচ্ছের কথা জানান।

 

 

 

 

এমনকি তৎকালীন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র প্রধান জেমস ওয়েব’কেও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নিদের্শ দেন। শান্তি আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশ যাতে যৌথভাবে মহাকাশ গবেষণায় কাজ করতে পারে। কেননা, সেই সময় মহাকাশ গবেষণায় রাশিয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্রের চাইতেও এগিয়ে।

নাসা’র প্রধান হলেও জেমস ওয়েব নিজেও ছিলেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য। উইকিলিকস’এর তথ্যমতে, সেসময় প্রকাশ্যে না বললেও কেনেডি’র ইচ্ছের সঙ্গে তিনি একমত ছিলেন না। অবশ্য সেটা রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপনের বিষয়ে নয়। তার দ্বিমত ছিল ভিনগ্রহীদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার বিষয়ে। তবে কেনেডি চাইছিলেন, ভিনগ্রহীদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জেনে যাক।

 

 

 

 

ফাঁসকৃত তথ্য এটাও বলছে, কেনেডি চাইছিলেন না মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ টিকে থাকুক। যে সমস্ত গোপন তথ্য সংস্থাটি গোপন করে রেখেছিল, কেনেডি চাইছিলেন তা অবমুক্ত করা হোক। এই বিষয়ে সিআইএর’র তৎকালীন চৌকস কর্মকর্তা ভিক্টর মারচেত্তি ১৯৭৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে বেশ কিছু কথা বলেন। এসময় তিনি ইউএফও’কে নিয়ে সিআইএ’র গৃহীত বিশেষ কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার বিশ্বাস ভিনগ্রহের উন্নত সভ্যতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ভালো করেই জানে।

 

 

 

 

তবে সাধারণ মানুষকে বিষয়টি জানিয়ে দিতে তারা আগ্রহী নয়। বরং তাদের চেষ্টা রয়েছে কোনোভাবেই যাতে এসব বিষয় সাধারণ মানুষ জানতে না পারে। তিনি এটাও দাবি করেন, ভিনগ্রহের উন্নত সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাও নিশ্চিত করেছিল। তিনি এটাও দাবি করেন, কেনেডির আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান ক্ষমতায় থাকাকালে ইউএফও বিষয়টি যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারে সে ব্যবস্থা করে যান। এজন্য পুরো বিষয়টিকে তিনি জাতীয় নিরাপত্তার অংশ করে ফেলেন।

 

 

 

 

ইউএফও বিশেষজ্ঞ রবার্ট উড অবশ্য পরে বলেছিলেন, কেনেডি জীবিতকালে এই বিষয়ে যে সমস্ত নথিপত্র প্রেরণ করেন তার মৃত্যুর পর সেগুলোকে তিনি পরীক্ষা করে দেখেন। নানাভাবে পরীক্ষার পর তিনি নিশ্চিত হন সেসব নথিপত্র নকল ছিল না।দেখুন ইউএফও সম্পর্কে কেনেডি’র সেই ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যঃ

 

 

 

কেবিএ