প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  প্রায় দশ বছর পর মহাশূন্য থেকে রহস্যজনক সংকেত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাশূন্যের গভীর কোনো স্থান থেকে এ সংকেত আসছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। তবে নতুন পাওয়া সংকেতের ধরণ এবং এর তরঙ্গ প্রবাহ নিয়ে গোলক ধাঁধাঁয় পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। ২০০৭ সালের পর এবারই প্রথম ১৮ বার ফার্স্ট রেডিও বার্স্ট (এফআবি) বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দিয়েছে।

 

 

 

 

কেউ বুঝতে পারছেন না কোথায় এ শব্দের উৎপত্তি এবং কোথা থেকে আসছে এমন রহস্যময় সংকেত। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, কোনো বিশালাকার তারকা থেকে অথবা কৃষ্ণ গহব্বর থেকে শক্ত পদার্থের ঝরণা প্রবাহ অথবা ভিনগ্রহের কল্পিত এলিয়েনের তৈরি এ শব্দ।এবারের এফআরবি অনেক শক্তিশালী কিন্তু শব্দ তরঙ্গ ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য।

 

 

 

 

শেষবারের তরঙ্গটি এক মিলি সেকেন্ডের সমান।গ্রাপেভিন, টেক্সাসে অবস্থিত আমেরিকান মহাকাশ সোসাইটির বার্ষিক সভায় সম্প্রতি এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে অষ্ট্রেলিয়ান পার্ক টেলিস্কোপের মাধ্যমে এফআরবি শনাক্ত করা হয় ২০০৭ সালে। সে সময় ১৭টি তরঙ্গ শোনা যায়। এর মধ্যে একটি একাধিকবার শোনা গিয়েছিল।

 

 

 

ওই ঘটনার পর ছয় মাস ধরে বিজ্ঞানীরা এর উৎপত্তি নিয়ে গবেষণা করেন। পরে মহাশূন্যের কোন স্থান থেকে ওই শব্দের উৎপত্তি হয়েছিল তা উদঘাটন করতে সক্ষম হন। যেটা পৃথিবী থেকে ৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছোটখাট একটি ছায়পথ (গ্যালাক্সি) থেকে আসা বলে বিজ্ঞানীরা জানান।  এবারের এফআবি 121102- তে উল্লেখ করা হয়েছে, এটা অনেক সুবিন্যস্ত এবং বড় আকারের। মার্কিন সাইয়েন্স ফাউন্ডেশন বহুমুখী এন্টেনা রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই সংকেত ধরতে পারেন।

 

 

 

 

গবেষক দলের সদস্য কানাডার মনট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শীহার্স টেন্ডুলকার বলেন, আগে যে কোনো এফআরবি’র ক্ষেত্রে উৎপত্তির দূরত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম এবং এগুলো আমাদের মিল্কিওয়ে থেকে আসছে বলে ধরে নেওয়া হতো। কিন্তু সর্বশেষ এফবিআর-এর ক্ষেত্রে এখন সেসব ব্যাখ্যা প্রত্যাখান করে নিয়েছি।

 

 

 

 

সর্বশেষ এই রহস্যজনক শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, এটা মনে হচ্ছে একটা চলমান প্রবাহ এবং ক্রমাগত দুর্বল রেডিও নির্গমন। তবে এইসব রহস্যময় শব্দের উৎপত্তি ১০০ আলোকবর্ষের বেশি দূরে হবে না বলে ধারণা করছেন এই বিজ্ঞানী।গবেষক দলের নেদারল্যান্ডের সদস্য ড. বেনিত্তো মারকোতে বলেন, আমরা ভাবছি ক্রমাগত শব্দ তরঙ্গ প্রবাহ এমন কোনো বস্তু থেকে উৎপত্তি যেগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে যুক্ত।

 

 

 

 

তবে এটা এখনও আমাদের জানার বাইরে।তবে নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণের ফলে বিচ্ছিন্ন হওয়া কোনো প্রশমিত ঘন কণিকাযুক্ত নিউট্রন ‘ম্যাগনেটার’ চৌম্বকীয় তারকার গায়ে গিয়ে পড়ার কারণে এমন শব্দের উৎপত্তি হতে পারে। অথবা কৃষ্ণ গহব্বর থেকে শক্ত পদার্থের ঝরণা প্রবাহ হতে পারে।‘তবে এটা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আমাদের আরো সময় লাগবে’ – বলেন কারনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. স্বামী চ্যাটার্জি। সূত্র : ইন্ডিপেনডেন্ট।

ডব্লিউএন