প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ     সাবেক অর্থমন্ত্রীকে বিদায়ী শুভেচ্ছা ও নতুন অর্থমন্ত্রীকে স্বাগতম অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অত্যন্ত ভালো মানুষ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, মুহিত ভাই সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানুষ। মন্ত্রণালয় পরিচালনায় যখনই প্রয়োজন হবে আমি তার কাছে যাবো। তিনি বিদায় নেয়ার আগে বলেছিলেন, আগামীতে যিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে আসবেন তার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা রেখে যাবেন। আমি তার কর্মকাণ্ডকে অনুসরণ করবো। তার রেখে যাওয়া জায়গা থেকেই কাজ শুরু করবো। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কনফারেন্স কক্ষে ‘সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বিদায়ী শুভেচ্ছা ও নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে স্বাগতম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেনভূঁইয়া।

 

 

 

 

 

 

মুস্তফা কামাল বলেন, এনবিআরকে নিয়ে মুহিত ভাইয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গত ১০ বছরে ৫৪ হাজার কোটি টাকা থেকে এখন রাজস্ব আদায় ৩ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আমাদের স্বপ্ন এখন ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা।গত ১০ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৫৪৩ ডলার থেকে ১৭০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এসব কারণে গত ১০ বছরে ১৭টি দেশকে পেছনে ফেলে ৫৮তম দেশ থেকে ৪১তম দেশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে জি-২০ সামিট চলছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেখানে আমন্ত্রণ পায়নি। তবে ২০৪১ সালে আমরা সেখানে আমন্ত্রণ পাবো, সেজন্য সেই কাজটি করতে হবে। মুহিত ভাই যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণ করবো।

 

 

 

 

এদিকে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বক্তব্যে বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে করদাতা এবং রাজস্ব আহরণ এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে আসেনি। এজন্য বেশ কিছু পরামর্শও দেন তিনি। কর আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানো যেতে পারে মন্তব্য করে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, গত দশ বছর আগে ভয়ংকর রকমের জনবিচ্ছিন্ন ছিল কর প্রশাসন। তবে এখন সময়ে বদলেছে। বিশ্বে সবচেয়ে কম কর আদায় হয় বাংলাদেশে।
এদিকে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টে (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য জায়গা কঠিন হয়ে যাবে তাই এখনই বিনিয়োগের উত্তম সময়। অগ্রগতির সব খাতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। তাই এখনই বিনিয়োগের সুবর্ণ সময়। গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত ও জাইকার প্রতিনিধি দল। এ সময় বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানালে তারা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

 

 

 

 

 

 

জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরো ইয়াসু ইজুমি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন-সহযোগী হলো জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। আর উন্নয়ন-সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু হলো জাইকা। বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে তিনি গর্বিত। বাংলাদেশে যে অর্থ খরচ করে তা শুধু জাইকার নয়, জাপানের প্রত্যেক করদাতার অর্থ এখানে খরচ হয়। এটা সমগ্র জাপানের মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল দেশ।