প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   কিয়ামুল লাইল বা রাতের তাহাজ্জুদ নামাযের ফযিলত আল্লাহর নিকট অনেক বেশি কোন সন্দেহ নেই। ফরয নামাযের পর এ নামাযের স্থান। এ নামাযের বৈশিষ্ট্য শুধু ব্যক্তির পাপ মোচন করা নয়, বরং পাপে লিপ্ত হওয়া থেকেও হিফাযত করা। যেমন আবু উমামা বাহেলি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

(عليكم بقيام الليل ، فإنه دأب الصالحين قبلكم ، وقربة إلى ربكم ، ومكفرة للسيئات ، ومنهاة للإثم) .
“তোমরা রাতের নামায জরুরী করে নাও, কারণ তা নেককার লোকদের অভ্যাস, তোমাদের রবের নৈকট্য, গুনাহের কাফফারা ও পাপ থেকে সুরক্ষা”। (তিরমিযি: ৩৫৪৯)

 

 

 

 

 

তাই আমরা যেন তাহাজ্জুদকে নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করে নেই। অন্তত রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই যেন তাহাজ্জুদে ওঠার নিয়্যত করে ঘুমাই।

এ প্রসঙ্গে আবু দারদা ‎রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে একটি মারফূ হাদিসে এসেছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‎ বলেছেন: مَنْ أَتَى فِرَاشَهُ وَهُوَ يَنْوِي أَنْ يَقُومَ يُصَلِّي مِنْ اللَّيْلِ ، فَغَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ حَتَّى أَصْبَحَ ، كُتِبَ لَهُ مَا نَوَى ، وَكَانَ نَوْمُهُ صَدَقَةً عَلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ

অর্থঃ “যে ব্যক্তি তার বিছানায় আগমন করল এ নিয়তে যে রাতে উঠে সালাত আদায় করবে, কিন্তু তার চোখে ঘুম চেপে থাকল ভোর পর্যন্ত, তার নিয়ত অনুসারে তার জন্য লিখা হবে, আর তার ঘুম হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সদকা”। (নাসায়ি: ১৭৮৭; ইব্‌ন মাজাহ: ১৩৪৪)

 

 

 

 

 

লক্ষ্য করুন নিয়তের গুরুত্ব। নিয়ত আমলের জায়গায় প্রতিস্থাপিত হয়! এ থেকে আমরা ঐ ব্যক্তির বদ নসিব জানতে পারি, যে ঘুমানোর সময় ফজরের ফরয নামায আদায়ের নিয়তটুকু পর্যন্ত করে না। এ হতভাগা শুধু কর্মস্থল অথবা বিদ্যালয়ের জন্য জাগ্রত হয়। সে কবিরা গুনায় অনবরত লিপ্ত, আমরা কামনা করি এমন অবস্থায় তার মৃত্যু না হয়। আল্লাহর নিকট পানাহ চাই।

আর যে ফজরের সময় উঠার নিয়ত করে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিল, কিন্তু তবুও উঠতে পারল না, তার ওপর কোন তিরস্কার নেই। কারণ ঘুমন্ত অবস্থায় আল্লাহর বিধানের সীমালঙ্ঘন নেই, সীমালঙ্ঘন হচ্ছে জাগ্রত অবস্থায়। রাব্বুল আলামিন আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।