প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   চারবছরের সম্পর্ক শেষ হয়েছে সিহাব আর তানিয়ার (ছদ্মনাম)। শেষের দিকে এসে কেউ যেন কাউকে একবারে সহ্যই করতে পারতো না। ঝগড়া, অভিযোগ লেগেই থাকতো। এমনও হতো, কেউ কাউকে দিনের পর দিন ফোন না দিয়ে বা যোগাযোগ না করে পার করে দিতো। কারো প্রতি শ্রদ্ধা ছিল না একেবারে। শেষে বিশাল তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে বন্ধুবান্ধব একত্র করে সেই সম্পর্ক শেষ করতে হয়েছে। এখন কেউ কারো নামই শুনতে পারে না, সহ্যও করতে পারে না।সম্পর্ক শেষ করবেন ভালো কথা, কিন্তু এতো তিক্ততা রেখে কেন? সবকিছু সুন্দর করে আলোচনার মাধ্যমেও সম্পর্ক শেষ করা সম্ভব। সেটা নিয়েই থাকছে আজকের আলোচনা-

 

 

 

 

তার প্রতিক্রিয়া আন্দাজ করে নিন

আপনার সঙ্গীটিকে নিশ্চয়ই আপনি ভালো করেই চেনেন আর জানেন। আপনাদের বিচ্ছেদের ব্যাপারটি সে কীভাবে নেবে, সেও কি বিচ্ছেদে আগ্রহী বা বিষয়টি মেনে নিতে পারবে কিনা সেটা আপনাকে বুঝে নিতে হবে। সম্পর্ক শেষ করার সময় আপনার সঙ্গীর বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রাখুন। ক্যারিয়ার বা পড়াশুনায় বড় কোনো পরিবর্তনের আগে, কোনো কঠিন সময়ের আগে ব্রেকআপ করবেন না। এতে আপনার সঙ্গী ভেঙে পড়বে।

 

 

 

নিজের মুখে জানান

আপনার সম্পর্ক, আপনার ভালোবাসা বা আপনার বিচ্ছেদ- সবগুলোই আপনার একান্ত নিজের ব্যাপার। এগুলো নিজের হাতেই সামলান। আপনার সঙ্গীর সঙ্গে সমস্যা, তার সঙ্গে আর সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন না যখন তাকে দেরি না করে জানিয়ে দিতে হবে। তবে কখনো বন্ধু বা কাছের কাউকে দিয়ে জানাতে যাবেন না। নিজের মুখে জানাবেন। আর ফোন, মেসেজ বা মেইল করে কিছু জানাবেন না। সরাসরি দেখা করে বলুন।

 

 

 

ভালো একটি স্থান বেছে নিন

সব কথা জানানো এবং সম্পর্ক বিচ্ছেদটার জন্যেও একটা ভালো স্থান আর পরিবেশ বেছে নিন। নিরিবিলি শান্ত জায়গায় যান। সেখানে মন খুলে কথা বলুন। আশেপাশের পরিবেশ ভালো না হলে কথা বলে আপনি কোনো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না।

 

 

 

কেউ কাউকে দোষ দেবেন না

সম্পর্ক শেষ হয়ই মূলত মনোমালিন্য বা বনিবনা না হওয়ার কারণে। একে অপরের প্রতি রাগ আর অভিমান থাকে প্রচুর। তবে আপনারা যদি স্থির করেই ফেলেন যে এই সম্পর্ক আর সম্ভব না, তাহলে আপসেই সরে যান। আর শেষ মুহূর্তে ভুলেও কেউ কাউকে দোষ দিয়ে যাবেন না। চেষ্টা করুন নিজের দোষগুলো শেষ করে যেতে।

 

 

 

শ্রদ্ধা রাখুন, সৎ হোন

সবার আগে প্রয়োজন নিজের সততার। নিজে সৎ না হলে সরে আসার ব্যাপারটি কিছুটা হাস্যকর লাগে। আর সম্পর্কটা বা সঙ্গীর ওপর শ্রদ্ধা রেখেই তবে বেরিয়ে আসুন। এতে আর কখনো ক্ষোভ তৈরি হবেনা।

 

 

 

তার কথা শুনুন

আপনি নিজের মতো করে সব বলে যাবেনা না। যে পক্ষ থেকেই বিচ্ছেদ চাওয়া হোক, বা দুজনেই যদি বিচ্ছেদ চায় তবে উভয়ের কথাই উভয়ে শুনবেন। একভাবে অন্যকে কথা শুনাবেন, সমস্যার কথা জানাবেন তা তো হয় না। সঙ্গীল কি বলার আছে সেটাও শুনুন।

 

 

 

সরাসরি কথা বলুন, উত্তর দিন

ঘুরিয়ে পেচিয়ে কোনো কথা বলবেন না। ব্রেকআপের সঠিক কারণ তার কাছে ব্যাখ্যা করুন। তার ব্যাখ্যাও শুনুন। আমার তোমাকে ভালো লাগছে না, তোমার অনেক দোষ বলে কাটিয়ে যাবেন না। সোজা বলবেন যে সম্পর্কটা ঠিক জমছে না। আর আপনাকে সে কোনো উত্তর দিলে তার সরাসরি উত্তর দেবেন। ইতস্তত করবেন না।

 

 

 

কিছুটা ধকলের জন্য প্রস্তুত থাকুন

যে কারণেই ব্রেকআপ করুন না কেন আপনার সঙ্গীর কষ্ট হবেই। তার দিক থেকে রাগ, দুঃখ, হতাশা মিশ্রিত প্রতিক্রিয়ার জন্য নিজেকে তৈরি রাখুন। আর নিজেরও কষ্ট হবে, অভ্যাস করতে সময় লাগবে- এটাও মাথায় রাখবেন। নিজেকে সামলে নেওয়ার জন্য তৈরি হন।

 

 

 

ব্রেকআপের পর দুরত্ব বজায় রাখুন

সম্পর্ক শেষ মানে সেটা শেষ। দুই একদিন পর পর বলবেন ভালো লাগছে না, তুমি বিচ্ছেদের পর কেমন আছো, আমার কথা মনে পড়ে কিনা- এগুলো বলতে গিয়ে আবেগ চলে আসবে। বিচ্ছেদ হয়েও সেটা ঠিক বিচ্ছেদ হবে না। আপনি সঙ্গী থেকে দূরে সরে যান, গুটিয়ে নিন। এতে আপনারই মঙ্গল হবে।