প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বাড়ছে রেমিটেন্স প্রবাহ। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ ধারাবাহিক থাকলে জানুয়ারিতে রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স আসবে বাংলাদেশে।বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনে দেশে ১২৮ কোটি ১৭ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গেল ডিসেম্বরের পুরো মাসের চেয়ে বেশি।

 

 

 

 

 

ডিসেম্বরে রেমিটেন্স এসেছে ১২০ কোটি সাড়ে ২৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ চলতি মাসের ২৫ দিনে গত মাসের চেয়ে ৭ কোটি ৮৯ লাখ ডলার বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে।এদিকে জানুয়ারি মাসে গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ১২ লাখ ডলারের মত রেমিটেন্স এসেছে। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে চলতি মাস (জানুয়ারি) শেষে দেড়শ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যা বাংলাদেশের এ যাবতকালের সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আহরণ হবে।

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অবৈধভাবে মোবাইল ব্যাংকিং হুন্ডির মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ে। ফলে প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পরে। এ কারণে রেমিটেন্স বাড়াতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।অবৈধ লেনদেনের দায়ে বন্ধ করা হয় বিকাশের ২ হাজার ৮৮৭টি এজেন্টের নাম্বার। এছাড়া ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এসব কারণে রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবাহ পড়েছে।

 

 

 

 

 

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্যসমাপ্ত ২০১৮ সালে ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৫৫৭ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০৪ কোটি ডলার বা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৭ সালে এসেছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার।চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৭৪৯ কোটি ৬৭ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে।

 

 

 

 

 

 

গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিটেন্স এসেছিল ৬৯৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার।২০১৭ সালে এসেছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগের বছর ২০১৬ সালে ছিল এক হাজার ৩৬১ কোটি ডলার। ২০১৫ সালে এসেছে এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯২ কোটি ডলার।

 

 

 

 

 

রেমিটেন্সের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত চার বছরের মধ্যে দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে। এ সময় রেমিটেন্স এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার।

 

 

 

 

 

 

এছাড়া সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।