প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনতে আজই বুধবার (৩০ জানুয়ারি) মামলা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিউইয়র্কের সময় অনুযায়ী আজ এই মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এছাড়া আগামী সপ্তাহে আরও একটি মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।আজ বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে তিনি এ তথ্য জানান।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এর আগে রোববার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি বোর্ড সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনতে মামলার জন্য গত রোববার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন।এ বিষয়ে বিএফআইইউর প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, টাকা উদ্ধারে সব সময় সামনে। আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক এমন ঘটনায় মামলা করতে সর্বোচ্চ তিন বছর সময় পাওয়া যায়। মামলার রূপরেখা চূড়ান্ত। নানা দিক চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তাই কোনো ধরনের তাড়াহুড়া করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সুইফট সিস্টেমে ৭০টি ভুয়া পরিশোধ অর্ডার পাঠিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হতে মোট ১৯২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার অবৈধভাবে নেয়ায় চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে একটি পরিশোধ অর্ডারে শ্রীলঙ্কায় দুই কোটি ডলার ও চারটি অর্ডারে আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের একটি শাখার ভুয়া গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হয়ে জুয়ার বাজারে চলে যায়। শ্রীলঙ্কা থেকে ইতোমধ্যে চুরি হওয়া সব অর্থ ফেরত এসেছে। আর ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থের মধ্যে এক কোটি ৫০ ডলার দেশটির কোর্টের আদেশে ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার অনাদায়ী রয়েছে, যা আরসিবিসির কাছ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধারের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় তিন বছরের মধ্যে মামলা না করলে তার গুরুত্ব কমে যায়। ফলে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।