প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ    দুই বাসের চাপায় হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য ১৩ মার্চ পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।বুধবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ ছিল।কিন্তু শাহবাগ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আফতাব আলী মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সরাফুজ্জামান চৌধুরী নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।এ নিয়ে আটবারেও মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারল না পুলিশ।

 

 

 

 

 

 

আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মাহমুদুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছলে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে গা ঘেঁষে অতিক্রম করতে থাকে।এ সময় দুই বাসের চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দু-তিনজন পথচারী দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি। পরে তাকে ঢামেকের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সাময়িক উন্নতির পর গত সোমবার থেকে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এর পর আর জ্ঞান ফেরেনি তার। সোমবার রাতে রাজীব চলে যান না ফেরার দেশে।

 

 

 

 

 

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে। তার ছোট দুই ভাই আছে, যাদের দেখাশোনা করতেন রাজীব। তারা রাজধানীর একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন।