প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ    সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পরও উপজেলা ভোটে আগ্রহ রয়েছে বিএনপির তৃণমূলে। বিশেষ করে বিএনপি অধ্যুষিত এলাকায় উপজেলায় প্রার্থী হতে মরিয়া দলের স্থানীয় নেতারা। অনানুষ্ঠানিকভাবে কেউ কেউ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও নিজেরা না দাঁড়িয়ে নিকটাত্মীয়দের ভোটে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

যেসব উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান রয়েছেন, তারা এবারও উপজেলা ভোট করতে আগ্রহী। এরই মধ্যে তারা এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েও কোনো কোনো প্রার্থী ভোটে প্রস্তুত। তাদের বক্তব্য, ভোটে জিতে এলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া হবে না।

 

 

 

সারা দেশে ৪৯২টি উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানের (পুরুষ-মহিলা) সংখ্যা প্রায় ৪০০। তার অধিকাংশই ভোটে লড়তে আগ্রহী। তবে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত বিএনপির হাইকমান্ডের। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি স্কাইপিতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভোট বর্জনের প্রস্তাব দিলে সবাই একমত হন।

 

 

 

 

পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, ‘শুধু উপজেলায় নয়, দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে যাবে না।’ এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানই নয়, পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও বেশকিছু এলাকায় প্রার্থী দেবে স্থানীয় বিএনপি।

 

 

 

 

এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের যে কোনো সিদ্ধান্তও মেনে নিতে প্রস্তুত তারা। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ১৫ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ভোটে দলীয় প্রার্থী হন। তার মধ্যে কেউ কেউ আবারও উপজেলা নির্বাচনে লড়বেন।

 

 

 

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘উপজেলাসহ সামনের সব নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে- দলীয় সরকারের অধীনে হলে আমরা যাব না। ধানের শীষের প্রতীকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এর পরও কেউ যদি নিজের সিদ্ধান্তে স্বতন্ত্র ভোট করেন তা তার দায়িত্ব, বিএনপির নয়।’

 

 

 

 

জানা যায়, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি প্রার্থীরা নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বর্তমানে শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আছেন বিএনপি সমর্থিত সরকার বাদল। তিনিও এবার প্রার্থী হবেন। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল বাশার ও উপজেলা যুবদল সভাপতি এনামুল হক শাহীন নির্বাচনে লড়তে চান। উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদলের স্ত্রী পলাশী খাতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে দোয়া চেয়ে বেড়াচ্ছেন। কোনো কারণে বাদল নির্বাচন না করতে পারলে পলাশী খাতুন প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করীম শাহীন। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্রভাবে ভোটে লড়বেন। এ নিয়ে গতকাল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন দলীয়ভাবে বৈঠক করে শাহীনকে সমর্থন দেয়। স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে ‘কাপ পিরিচ’ প্রতীকও নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। তবে তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম শাহীন গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আমরা কোনো স্পষ্ট বার্তা পাইনি।

 

 

 

 

কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনে গেলে তার ব্যাপারে সাংগঠনিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে ব্যাপারেও আমি অবগত নই। এখন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সবাই চান, আমি ভোট করি।’ বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন বয়কট কোনো সমাধান নয়। যে কোনো পরিস্থিতিতেই নির্বাচনে যাওয়া উচিত।

 

 

 

 

এতে তৃণমূল বিএনপি আরও চাঙ্গা হয়ে উঠবে। কিছুদিনের জন্য হলেও তারা ব্যস্ত হবে। এটাও একটি সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে। এ প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কোনো নির্বাচনই বয়কট করা উচিত নয়।

 

 

 

 

এতে সমাধান হয় না, সমস্যা আরও বাড়ে।’ জানা যায়, সম্প্রতি দলের সাংগঠনিক-সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে স্কাইপিতে লন্ডন থেকে কথা বলেন তারেক রহমান। নয়াপল্টন কার্যালয়ে ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া ২১ জন নেতাই উপজেলার ব্যাপারে ‘না’ বলেন। পরে বিষয়টি স্থায়ী কমিটিতে তুলে ধরেন তারেক রহমান। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কোনো পদধারী নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটে অংশ নিলে তাকে ইস্তফা দিতে হবে।

 

 

 

 

নইলে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি যাচ্ছে না। তার পরও কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নেন, সে ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, ‘ভোটে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হলে আমরা জানতাম।

 

 

 

 

তবে বেগম খালেদা জিয়াবিহীন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই উপজেলা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না।’ বরিশাল বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবাই একমত, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি যাবে না।

 

 

 

 

তার পরও কেউ যদি যান তার নিজ দায়িত্বে।’ জানা যায়, শুধু বিএনপিই নয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোও উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট জালিয়াতির পর বর্তমান সরকার ও ইসির অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়া যায় না।

 

 

 

 

কারণ, সব নির্বাচনের ফলাফলই পূর্বনির্ধারিত এবং ইসির ভূমিকাও একই থাকবে। তাই শুধু শুধু নির্বাচনে গিয়ে এ সরকার ও ইসিকে বৈধতা দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। এ প্রসঙ্গে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত শুধু বিএনপিরই নয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেরও। আমরা উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেব না।’

 

 

 

 

২০-দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ‘যেহেতু জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমরাও উপজেলায় যাচ্ছি না। তবে এ নিয়ে জোটের আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি।’