প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ২০০৮ সালের দিকে ধর্ষণের পর এসিড দিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয় এক তরুণীকে। ওই মামলার চার নম্বর আসামিকে জগন্নাথপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ খবরে গ্রামবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন।রবিবার এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের অভিভাবকবৃন্দ ও এলাকাবাসী জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলমের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ছাড়াও অভিযোগপত্রের অনুলিপি জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে মামলার চার্জশিট সংযুক্ত রয়েছে।

 

 

 

 

 

এলাকাবাসী ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের গড়গড়ি কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন নৈশপ্রহরী নিয়োগের আহ্বান করা হয় গত বছর আগে। এতে গড়িগড়ি এলাকার ইউছুফ আলীর ছেলে রুহেল মিয়া ও একই এলাকার আব্দুল হেকিমের ছেলে সাইদুল ইসলাম অংশ নেন। এরমধ্যে সাইদুল ইসলাম এলাকার দরিদ্র ফজর আলীর তরুণী সমতেরা বেগমের হত্যা মামলার আসামি। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াহিদের আপন ভাতিজা। যে কারণে প্রভাব বিস্তার করে চাকরিদানে পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

 

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ২০০৮ সালে দরিদ্র হজর আলীর মেয়ে সমতেরা বেগমকে প্রথমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে লাশ তার বাড়ির সামনে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা ফজর আলী বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ৪ নম্বর আসামি সাইদুল ইসলাম। মামলার পর কয়েকমাস কারাভোগ করেছে সাইদুল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক ব্যক্তি জানান, সাইদুল ইসলাম একটি হত্যা মামলার আসামি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র স্থানে একজন খুনী ও খারাপ চরিত্র লোক থাকতে পারে না। এতে করে আমাদের শিশু শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়।

 

 

 

 

 

অভিযুক্ত ব্যক্তির চাচা গড়গড়ি কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, তার ভাতিজার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা গত বছর আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়েছে। তবে নৈশপ্রহরী পদে এখনো নিয়োগ হয়নি বলে তিনি জানান।এ বিষয়ে জানতে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন বলেন, গড়গড়ি কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাইদুল ইসলামকে গত সপ্তাহে নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আণিত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই পদ থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হবে।

 

 

 

 

 

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি।জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, অভিযোগপত্র পেয়েছি। গুরুত্বসহকারে তদন্ত পূর্বক আইনানুত পদক্ষেগ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।