প্রথমবার্তা,প্রতিবেদং   খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ তরুণই গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ ও সদর থানা যুবলীগের নেতা। একসাথে এ ৫ নেতার মৃত্যূর ঘটনায় গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনেও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের বাড়িতে চলছে আহাজারি ও শোকের মাতম। সকাল থেকেই নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন, প্রতিবেশীরা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

 

আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে নিহতদের লাশ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। তাদের লাশ গোপালগঞ্জ আনার খবরে ভোররাত থেকেই হাসপাতাল এলাকায় ভিড় জমায় নিহতদের স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বন্ধু, সহপাঠীসহ শ্রেণি-পেশার মানুষ। সকাল সাড়ে ৭টার পর একে একে নিহতদের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় স্ব স্ব পরিবারে। এ সময় স্বজন, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে এলাকা।

 

 

 

 

 

নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সবুজবাগ এলাকার অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে মাহবুব হাসান বাবু, একই এলাকার মৃত আলাউদ্দিন সিকদারের ছেলে ও গোপালগঞ্জ সদর থানা যুবলীগের সহসভাপতি মো. সাদিকুল আলম সাদিক, শহরের চাঁদমারী এলাকার অহিদ গাজীর ছেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অনিমুল গাজী, শহরের থানারপাড়ার গাজী মিজানুর রহমান হিটুর ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর ভাতিজা জেলা ছাত্রলীগের উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক অলিদ মাহমুদ উৎস ও শহরের গেটপাড়ার আলমগীর হোসেনের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সাজু আহমেদ। নিহত ৪ ছাত্রলীগ নেতা গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের ছাত্র ছিলেন।

 

 

 

 

আজ সোমবার বাদ জোহর নিহত ওই পাঁচ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতার জানাজা গোপালগঞ্জ শেখ ফজলুল হক মণি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। গোপালগঞ্জের এই ছাত্র ও যুব নেতাদের অকালমৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক সংগঠন, জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল রবিবার খুলনার রূপসা সেতু বাইপাস সড়কের খাজুর বাগান এলাকায় ট্রাক ও প্রাইভেট কারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ওই ৫ নেতা নিহত হন।