প্রশ্ন: আমার সাথে এক ছেলের ই-মেইলে সম্পর্ক আছে। আমি এ সম্পর্কটিকে সম্পূর্ণরূপে কর্তন করতে চাই; কিন্তু পারছি না। কিছু সময়ের জন্য সম্পর্ক ছিন্ন রাখি; আবার ফিরে আসি। আমি চাই যে, আপনারা আমার দ্বীনদারি ও আমার নিজের ওপর এ সম্পর্কের অপকারিতা ও ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরবেন। আপনারা এমন কিছু বলবেন না যে, এ সম্পর্ক অচিরেই…। নিজের ব্যাপারে আমার কনফিডেন্স আছে। আমি তার সাথে ফোনে কথা বলব না এবং তার সাথে সাক্ষাৎও করব না। কিন্তু, আমি নিজের ওপর কিভাবে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারি? আমি চাই যে, আপনারা এমন কিছু কারণ উল্লেখ করবেন যাতে, আমি এটাকে বাদ দেয়ার ব্যাপারে কনভিন্স হতে পারি। আমি চাই, বিস্তারিত জবাব দিবেন এবং জবাবের মধ্যে কিভাবে এ সম্পর্ককে বাদ দিতে পারি সেটার পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করবেন। সম্প্রতি আমি জেনেছি যে, সে বিবাহিত।

 

 

 

 

 

উত্তর: আপনি চূড়ান্তভাবে এ সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে চাচ্ছেন জেনে আমরা খুশি হয়েছি। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে দুআ করি তিনি যেন, আপনাকে সে তাওফিক দেন। এ ধরণের সম্পর্ক যে, হারাম এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিধা নেই। এর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট যে, এ ধরণের সম্পর্ককারী অনুভব করে যে, সে ভুল কাজ করছে এবং মানুষের কাছ থেকে এটাকে লুকিয়ে রাখে, মানুষের সামনে এটাকে প্রকাশ করতে পারে না। এ ধরণের কাজ হারাম হওয়ার দলিল হিসেবে এটাই যথেষ্ট। রাসুলুল্লাহ (সা.) তো বলেছেন:
“পাপ হল যা তোমার অন্তরে খটকা তৈরী করে এবং মানুষ সেটা জেনে যাওয়াকে আপনি অপছন্দ কর।” -সহিহ মুসলিম (২৫৫৩)

 

 

 

 

 

এ হারাম সম্পর্কের অনেক অপকারিতা রয়েছে; যেমন—

নিছক হারাম কাজ করাটাই এক মহা বিপর্যয়; যা ব্যক্তির অন্তরের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে ধীরে ধীরে অন্তর কালো হয়ে যায়। এভাবে সকল গুনাহই অন্তরের ওপর প্রভাব ফেলে।

 

 

 

 

 

এ যদি এ ধরণের পাপময় সম্পর্কগুলোর সংবাদ ফাঁস হয়ে যায় তাহলে মেয়েদের এমন দুর্নাম হয় যে এতে তার ভাল গুণগুলোও ঢাকা পড়ে যায়। মানুষের কাছে তখন শুধু এ দুর্নামগুলোই আলোচিত হয়। আপনি জানেন যে, যদি কোন মেয়ের ব্যাপারে এমন ছড়িয়ে পড়ে সে মেয়ের সাথে মানুষের ব্যবহার কেমন হয় এবং মেয়েটি কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

 

 

হতে পারে এ সম্পর্ক এর চেয়ে জঘন্য থেকে জঘন্যতর গুনাহর দিকে নিয়ে যাবে। তখন অনুতপ্ত হয়েও কোন লাভ হবে না। আশ্চর্যের বিষয় হলো: প্রত্যেক ভিক্টিমই নিজের সম্পর্কে এমনটি বলে যে, আমি নিজের প্রতি ও আমার বয় ফ্রেন্ডের ব্যাপারে আস্থাশীল। আমরা অন্য মেয়ে ও ছেলেদের মতো নই…। এমন অনেক ঘটনা বলে শেষ করা যাবে না। দুঃখজনক হল: এসব ঘটনা থেকে খুব কম সংখ্যক মানুষই শিক্ষা গ্রহণ করে। এ ধরণের প্রশ্ন অনেক আসে। কিন্তু, সবকিছু খোয়ানোর পর।

 

 

 

 

সময় থাকতে নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করুন। কেননা আমরা মনে করছি, আপনাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া যাওয়া হচ্ছে; কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না। হতে পারে, অন্যেরা আপনার চেয়ে দ্রুতবেগে চরিত্রহীনতার অতলে নিমজ্জিত হয়। কিন্তু, আমরা নিজের মেয়ে ও বোনের ব্যাপারে যে ভয় করতাম আপনার ব্যাপারেও সে ভয় করছি।

 

 

 

 

এ হারাম সম্পর্ক ত্যাগ করার জন্য কোন ক্রমধারা অবলম্বনের প্রয়োজন নেই। এ ধরণের চিন্তা হতে পারে শয়তানের ধোকা। বরং মুমিন নর-নারী যখনই জানবে এটি হারাম তখনই তার সামনে এটি ত্যাগ করা ছাড়া আর কোন পথ নেই। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন:
“আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সে বিষয়ে তাদের কোন (ভিন্ন সিদ্ধান্তের) ইখতিয়ার সংগত নয়। আর যে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হলো।” -সূরা আহ্‌যাব, আয়াত: ৩৬

 

 

 

 

 

আল্লাহ্‌ তাআলা আরও বলেন:
“মুমিনদের উক্তি তো এই—যখন তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম’। আর তারাই সফলকাম।”-সূরা নূর, আয়াত: ৫১, ৫২আমরা আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে দুআ করি, তিনি যেন আপনাকে তওবা করার তাওফিক দান করেন এবং আপনার তওবা কবুল করে নেন।

 

 

 

 

আপনি উল্লেখ করেছেন যে, এ ছেলেটি বিবাহিত। এর মানে আপনি এ সম্পর্কের মাধ্যমে আপনার বোন (তার স্ত্রী) এর প্রতি অন্যায় করছেন। কারণ, কোন সন্দেহ নেই যে, সে আপনাকে কিছু সময় দিচ্ছে, আপনার প্রতি সুন্দর কথা নিবেদন করছে, কিছু প্রেম পেশ করছে। কোন সন্দেহ নেই যে কেবল তার স্ত্রী-সন্তানেরাই তার থেকে এগুলো পাওয়ার হকদার। আপনি তাদের সে অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছেন।

 

 

 

 

এমনও হতে পারে যে, আপনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার কারণ হচ্ছেন।আপনি এভাবে একটু ভেবে দেখুন তো, এ লোকটি যদি আপনার স্বামী হত আপনি কি সন্তুষ্ট হতেন যে, সে কোন এক মেয়ের সাথে এমন একটি সম্পর্ক করবে?যদি আপনি আপনার নিজের জন্য এতে সন্তুষ্ট হতে না পারেন; তাহলে আপনার বোনের ক্ষেত্রে কিভাবে সন্তুষ্ট হচ্ছেন?

 

 

 

 

আপনার উচিত অবিলম্বে এ সম্পর্ক ছিন্ন করা। ভাল ও কল্যাণকর কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। খুব সম্ভব এ সম্পর্কের কারণে আপনি নেক আমলে কিংবা কিছু কিছু নেক আমলে স্বাদ পাচ্ছেন না।

 

 

 

 

 

আপনার উচিত—নামায আদায় করা; আল্লাহ্‌র কাছে মুনাজাত করে, তাঁকে স্মরণ করে, তাঁর কিতাব তেলাওয়াত করে স্বাদ অনুভব করা এবং আপনার তওবা কবুল করা ও আপনাকে ক্ষমা করার জন্য বেশি বেশি দুআ করা। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।