প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  আগামী ৭ই মার্চ এমপি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন গণফোরামের দুই প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান। শপথ নেয়ার জন্য গতকাল স্পিকার বরাবরে চিঠি  পাঠিয়েছেন এ দুই প্রার্থী। সংসদ সচিবালয়ের সম্মতি পেলে ঐতিহাসিক এ দিনেই শপথ নিতে চান বলে প্রথমবার্তাকে জানিয়েছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। এর আগে ডাকসুর সাবেক এ ভিপি জানিয়েছিলেন মার্চের প্রথম পক্ষেই শপথ নেবেন তিনি।

 

 

 

 

 

গণফোরামের হয়ে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে তিনি  মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে সিলেট-২ আসন থেকে গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে নির্বাচিত হন মোকাব্বির খান। একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করায় গণফোরামসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ না নেয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছে। তবে গণফোরামের এ দুই প্রার্থী বলছেন, স্থানীয় ভোটার ও নেতাকর্মীদের চাপে তারা শপথ নিচ্ছেন।

 

 

 

 

মিশ্র প্রতিক্রিয়া: এদিকে এ দুই প্রার্থী শপথ নিতে স্পিকারকে চিঠি দেয়ার পর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দল ও জোটের নেতারা।একইসঙ্গে তাদের নির্বাচনী এলাকায়ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দুই নেতার শপথ নেয়াকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। গতকাল তিনি মানবজমিনকে বলেন, তারা শপথ নেয়ার জন্য যে চিঠি দিয়েছেন দল বা জোটের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেননি। এখন আমরা দল ও জোটের বৈঠক করে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত শপথ না নেয়ার। তারা যদি শপথ নেন তাহলে এটি হবে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচনে বিজয়ী এ দুই প্রার্থীর বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা জনগণ কোনোভাবেই ইতিবাচক হিসেবে নেবে না। বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট, বাম জোট নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।এমনকি সরকারের কোনো কোনো শরিকও এই নির্বাচনের কড়া সমালোচনা করেছে। এই অবস্থায় তারা যদি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেন তাহলে এটি তাদের জন্য ভালো কিছু হবে না।

 

 

 

 

এদিকে দুই নেতার শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে তাদের নির্বাচনী এলাকায়। মৌলভীবাজার-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচন করা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এলাকায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় সমর্থন পেয়েছিলেন। তার সিদ্ধান্তে হতাশ তারা। উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ জুনেদ এ বিষয়ে বলেন, সুলতান  মোহাম্মদ মনসুরের সিদ্ধান্তে স্থানীয় বিএনপি হতাশ। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আমরা তাকে সমর্থন দিয়েছিলাম। এখন কেন্দ্রের কথাই তারা মানছেন না। এটাকে কেউ ভালোভাবে নিচ্ছে না।

 

 

 

 

 

সিলেট-২ আসনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও রয়েছে নানামুখী প্রতিক্রিয়া। ওসমানীনগর থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাজ মুহাম্মদ ফখর বলেন, মোকাব্বির খান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা কেউ ভালোভাবে নিচ্ছে না। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়। এখন শপথ না নেয়াটাও আন্দোলনের অংশ।