প্রথমবার্তা,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর সাপাহারে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। কিন্ত সাধারন জনগনের দাবি সুষ্ঠ সুন্দর ফিয়ার নির্বাচন,যার ফলে নির্বাচিত হবে জনগনের মনোনিত সৎ যোগ্য প্রার্থী।চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ থেকে দুইজন জাতীয় পাটি থেকে একজন জাকের পাটি থেকে একজন সহ মোট চার জন প্রতিদ্ব›িদ্বতা করলেও আ’লীগের দু’প্রার্থীই এখন সারা উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে চষে বেড়াচ্ছেন।

 

 

দু’জনেই সাধারণ ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন।কিন্ত ভোটে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাহান হোসেন মন্ডল আনারস মার্কায় এগিয়ে রয়েছেন বলে সর্ব সাধারনের মতামত পাওয়া যায়।শতকরা ৮০ ভাগ ভোট পাওয়া আসা ব্যাক্ত করে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ শাহজাহান হোসেন জানান যে, গত বারের নির্বাচনে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও আমি দু’জনেই প্রার্থী ছিলাম। তখন তৃণমুল নেতাকর্মীদের ভোটের আগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে সভাপতি আলহাজ¦ শামসুল আলম শাহ চৌধুরী তৃণমুল ভোটে জয়লাভ করায় আমি তাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেনে নিয়েছিলাম এবং ওই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমি সহ দলীয় নেতাকর্মীগন তার পিছনে কাজ করে তাকে ভোটে জয়লাভ করিয়ে ছিলাম।

 

 

কিন্তু এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি পূর্বের ঘোষনা মতে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আলহাজ¦ শামসুল আলম শাহ্ আবারো নিজকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দেন। এরই প্রেক্ষীতে ১ফেব্রুয়ারী নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আবারো ভোটের আগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটে তৃণমুল নেতাকর্মীগন আমাকে নির্বাচিত করলেও রহস্যজনক ভাবে কেন্দ্র হতে আমাকে বাদ দিয়ে পুনরায় তৃণমুল ভোটে পরাজিত ব্যক্তিকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। তৃণমুল ভোটে জয়লাভের পরেও কেন আমাকে মনোনিত করা হলোনা জেলা নেতৃবৃন্দের নিকট প্রশ্ন রেখেও তার কোন প্রতিউত্তর না পেয়ে আমি তৃণমুল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছি এবং নির্বাচন করছি।

 

 

বর্তমানে দলীয় সমর্থন বা মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ শাসমুল আলম শাহ চেীধুরী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ শাহজাহান হোসেন দু’জনেই নির্বাচনী মাঠে বেশ জোরে সোরে তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে একাধিক সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা হলে তারাও জানান যে, গতবারের নির্বাচনে তৃণমুল ভোটে শামসুল আলম শাহ চৌধুরী জয়লাভ করায় শাহজাহান হোসেন তাকে যেভাবে মেনে নিয়েছিলেন এবারে ঠিক তেমনি শাহজাহান জয়লাভ করায় তাকেও শাহজাহান হোসেনকে মেনে নেয়া উচিত ছিল। কেন তিনি তৃণমুল ভোটে হেরে গিয়েও লবিং করে নিজকে মনোনীত করালেন এ প্রশ্ন এখন সাধারণ ভোটারদের। তাই সাধারন ভোটাররা আনারস মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য মুখ খুলেছেন।

 

 

বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ শাহজাহান হোসেন এর জনসমর্থন কমানোর লক্ষে গত রোববার সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থকগন শনিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক একটি মাইক যোগে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান হোসেন (আনারস) কে বহিস্কারের ঘোষনা দেয়ার চেষ্টার লক্ষে শামসুল আলম শাহ চৌধুরীর কর্মী সমর্থকগন সদরে মাইকিং করতে গেলে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান হোসেন এর কর্মী সমর্থকগন তাদের মাইকটি বন্ধ করে দিয়ে কেন্দ্রীয় থেকে আসা বহি:স্কারের কাগজ দেখতে চায়। তাতে তারা কাগজপত্র দেখাতে ব্যার্থ হলে তাদের মাইকটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

 

 

এ সময় উভয় পক্ষের কর্মী সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা ও কথা কাটাকাটি হয়। এরপর পুলিশ উভয় পক্ষকে ফিরিয়ে দিলে উত্তেজনা নিরসন হয়। কিন্ত আমজনতা বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ শাহজাহান হোসেন এর পক্ষে মাঠে অবস্থান নেয়।বহিঃস্কারের বিষয়টি রিপোট লেখা পযন্ত কোন সুরাহ পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর সাথে নির্বাচন সংক্রান্ত কথা হলে তিনি ফিয়ার নির্বাচন উপহার দিবেন বলে জানিয়েছেন।