প্রথমবার্তা, ডেস্ক:   ‘আমরা আপনার সততায় বিশ্বাসী’ এই স্লোগানকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে কর্মকর্তাদের ঘুষ না খাওয়ার শপথবাক্য পাঠ করালেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘সৎ মানুষের বড় অভাব। আমরা একে অপরের সততায় বিশ্বাস করি না। তবে এখনো পৃথিবীতে সৎ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। যদি তাই না হতো তাহলে আমরা ধ্বংস হয়ে যেতাম। আমি সততায় বিশ্বাস করি, আমার রক্তে কেউ ইনজেকশন দিয়েও ঘুষ খাওয়াতে পারবে না। আমি চাই আপনারাও এই পথে চলবেন, আপনারাও সৎ থাকবেন।’

 

 

 

 

গতকাল সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কর্মকর্তাদের ঘুষ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা কি ঘুষ খান? ঘুষ কিভাবে খান? আমাকে তো কেউ ইনজেকশন দিয়েও ঘুষ খাওয়াতে পারবে না। যে ঘুষ খায় এবং যে দেয় উভয়ই সমান অপরাধী।’

 

 

 

 

দেশ সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৮.১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। মাথাপিছু আয় হয়েছে এক হাজার ৯০৯ ডলার। আগামী চার বছরের মধ্যে আমাদের প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিটে উন্নীত হবে, অর্থাৎ ১০ শতাংশে দাঁড়াবে।’বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সোনালী ব্যাংকের অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে এই ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি এখনো অনেক। অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় কম। খেলাপি ঋণেরও উন্নতি হয়নি। আবার খেলাপি ঋণের ৯০ শতাংশই কু-ঋণ। এটি আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

 

 

 

 

তিনি আরো বলেন, এলসির দায় যেন ফোর্স লোনে পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশে গ্রাহকদের সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদেরও সেই চর্চা করতে হবে। তবেই ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা বাড়বে।’

 

 

 

 

সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল বলেন, ‘হলমার্কের ঘটনার পর ধুঁকছিল সোনালী ব্যাংক। এটি থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। বড় বড় ঋণ দেওয়ার বিলাসিতা থেকে সরে এসেছি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নজর দিয়েছি।’

 

 

 

 

 

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরো বলেন, সোনালী ব্যাংক ৫১টি সেবা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে ১৬টি নামমাত্র মূল্যে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৫ হাজার কোটি টাকার এলসি খুলেছি। এতে কমিশন পাওয়ার কথা পাঁচ হাজার কোটি টাকা। পেয়েছি মাত্র ২০ কোটি টাকা।

 

 

 

 

স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাব। আমরা ২০১৯ সালে আমাদের অর্জন আরো সুসংহত করব।’