প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  ঋণখেলাপিদের গণসুবিধা দিয়ে নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছোট, মাঝারি বা বড়—সব ঋণখেলাপিই পুনঃ তফসিলের সুযোগ পাবে। আগের অনারোপিত সব সুদ মাফ করে দেওয়া হবে। এর আওতায় খেলাপিরা মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃ তফসিল করতে পারবে। ঋণ পরিশোধে সময় মিলবে টানা ১০ বছর। প্রথম এক বছর কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হবে না। তা ছাড়া ভালো গ্রাহকদের চেয়েও কম সুদে ঋণ ফেরত সুবিধা পাবে তারা। সুদ গুনতে হবে মাত্র ৯ শতাংশ হারে।

 

 

 

 

 

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ওই নীতিমালা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলার জারি করল।

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক ডিজি এবং অর্থনীতিবিদ তৌফিক আহমেদ চৌধুরী প্রথমবার্তাকে বলেন, এই ছাড়ের ফলে ঋণ সংস্কৃতি ভেঙে পড়বে। ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভালো গ্রাহকরা ঋণ ফেরত দিতে চাইবে না। কারণ খেলাপি হলেই সুবিধা বেশি।

 

 

 

 

‘ঋণ পুনঃ তফসিল ও এককালীন এক্সিটসংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা’ শীর্ষক এ সার্কুলারের শুরুতে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত বিভিন্ন কারণে ব্যবসায়ী/শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাংকের ঋণ অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিতভাবে পরিশোধিত হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ঋণ বিরূপভাবে শ্রেণীকৃত হয়ে পড়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় উৎপাদনশীল খাতসহঅন্যান্য খাতে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ বজায় রাখতে এবং নিয়মিত আদায়ের লক্ষ্যে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

 

এতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরভিত্তিক ঋণখেলাপিরা সুযোগ পাবে। ছাড় গ্রহণের জন্য আগামী ৯০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৬ আগস্টের খেলাপিদের আবেদন করতে হবে। এ সুবিধা গ্রহণকারীরা ব্যাংক থেকে আবার নতুন করে ঋণ নিতে পারবে। প্রচলিত নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে ঋণ দিতে বলা হয়েছে। নতুন ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে পুনঃ তফসিল সুবিধা বাতিল হবে।

 

 

 

 

 

সুবিধা গ্রহণের পর নিয়মিত অর্থ পরিশোধ না করলেও তাদের খেলাপি করা যাবে না। ৯টি মাসিক কিস্তির তিনটি এবং ত্রৈমাসিক তিন কিস্তির একটি পরিশোধ না করলেও নিয়মিত থাকা যাবে। তবে মাসিক কিস্তির মধ্যে ছয়টি ও ত্রৈমাসিক কিস্তির দুটি পরিশোধ না করলে পুনঃ তফসিল সুবিধা বাতিল করা হবে।

 

 

 

 

 

স্বাধীনতার পর থেকে যারা ঋণখেলাপি, তাদের এককালীন এক্সিট সুবিধা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের খেলাপি ঋণের হিসাব হবে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের এককালীন হিসাবায়ন ভিত্তিতে। অর্থাৎ ১৯৭১ সালের পর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যত খেলাপি ঋণ আছে, তার হিসাব করা হবে। কোনো ঋণখেলাপি যদি মনে করে, এককালীন ঋণ পরিশোধ করে খেলাপির তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে, তাহলে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সার্কুলারে।

 

 

 

 

 

 

 

এতে বলা হয়েছে, ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে ঋণখেলাপিরা ঋণ পরিশোধের জন্য এক বছর পর্যন্ত সময় পাবে। আগের সব সুদ বাবদ পাওনা মওকুফ করা হবে। এককালীন পরিশোধের জন্য সুদহার আরো কম, ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ডের সমান। তবে এক বছরের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে সুবিধা বাতিল হবে।এই এককালীন এক্সিট সুবিধা ও পুনঃ তফসিল সুবিধা কার্যকরের ৯০ দিনের ব্যাংক ও গ্রাহকের মামলা স্থগিত করতে হবে। পরে গ্রাহক কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে সুবিধা বাতিল করে মামলা পুনরায় চালু হবে।