প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  “আমার তখন বয়স ১২ বা ১৩৷ ওরা আমায় চেপে ধরল৷ জোর করে প্যান্ট খুলে দু’পা ফাঁক করল। আমি চিৎকার করছিলাম, আমার মুখ শক্ত করে চেপে দিল এক জন। তার পরেই তীব্র ব্যথা! ‘ওটা’ কেটে ফেলল ওরা৷ ছবিটা এখনও আমার চোখে ভাসে৷ আর ওই জায়গাটায় যে তীব্র ব্যথাটা হয়েছিল, সেটাও যেন ফিরে আসে। ওই টেবিলে ও ভাবে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই ওখানটা সেলাই করে ওরা। ওখানটা বেঁধে আমার দু’টো পা একসঙ্গে করে দেয়। অনেক দিন পা ফাঁক করতে পারতাম না আমি। টয়লেটের সময়ে চরম কষ্ট। প্রায় মাসখানেক পরে ক্ষত শুকোয়৷”

 

 

 

 

ওপরে লেখা অংশটা কোনও বই থেকে উদ্ধৃত নয়। কারও কোনও কাল্পনিক বক্তব্যও নয়। এ কথা সাংবাদিকদের সামনেই গোটা গোটা অক্ষরে বলেছিলেন সালাহা পাটওয়ালা নামের এক তরুণী। ইন্টারনেটে পিটিশনও দায়ের করেছিলেন তিনি। মুম্বইয়ের বোরা মুসলিম সমাজের তরুণী সালাহা ‘ওটা’ বলতে বুঝিয়েছিলেন তাঁর যোনি। আর যে দুঃস্বপ্নের মতো পর্বটার কথা সালাহা বলেছেন, সে পর্বের ভাল নাম ‘ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন’ (এফজিএম)। অর্থাৎ মেয়েদের যৌনাঙ্গচ্ছেদ। কোনও কোনও ধর্মীয় অভ্যেসে যে পদ্ধতি ‘খৎনা’ নামেও পরিচিত।

 

 

 

 

 

গত কালই পেরিয়েছে ‘জ়িরো টলারেন্স ডে এগেন্সট এফজিএম’। অর্থাৎ ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন সহ্য না করার বার্ষিক দিবস। আর বছরের সেই একটা দিন পেরোনোর সঙ্গেই আরও এক বার সামনে এসেছে, সারা বিশ্ব জুড়ে এফজিএম ‘টলারেন্স’-এর সংখ্যা এখনও কতটা বেশি!

 

 

 

 

পরিসংখ্যান বলছে, জার্মানি, সোমালিয়া, সুদান, আফ্রিকা এমনকী ভারতেও বোরা মুসলিম সমাজের মেয়েদের মধ্যে যত এফজিএম হয়, সেটা এই ২০১৯ সালেও আশঙ্কাজনক রকমের বেশি। অঙ্কের হিসেবে, সারা দুনিয়ার প্রতি ২০টি মেয়ের মধ্যে এক জন এই বর্বর প্রথার শিকার হয় নানা বয়সে। আর এর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তির বিধানও নেই বিশ্বের কোথাও। নেই কড়া আইনও।

 

 

 

 

এফজিএম সহ্য না করার বার্তায় যে দিবস নির্ধারিত হয়েছে, সেই দিবসই যেন মনে করিয়ে দেয়, বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে এফজিএম সহ্য করে মুখ বুজে থাকা মেয়েদের সংখ্যা! পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংগঠিত প্রতিবাদও।

 

 

 

 

 

ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ২৯টি দেশে ব্যাপক ভাবে এই রীতি চালু রয়েছে আজও। যদিও এদের মধ্যে ২৪টি দেশেই এটি আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু আইন করে কবেই বা দূর করা গিয়েছে সামাজিক অত্যাচার? কোনও আইন কি পেরেছে, ধর্মীয় অত্যাচার থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে?

 

 

 

 

মালিয়ার মালকো জামা নামে আর এক তরুণীর অভিজ্ঞতাও এমনই ভয়াবহ। ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর যোনির ক্লিটোরিস ও সেই সঙ্গে যোনির বাইরের অংশ, লেবিয়াও কেটে ফেলা হয় ছোটোবেলায়। দড়ি দিয়ে শক্ত করে পা দু’টি বেঁধে দেয় দাইরা। চার দিন ওই ভাবে, রক্তাক্ত অবস্থায়, একই জায়গায় বসে থাকতে হয় তাকে।

 

 

 

 

নারী অধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘ট্যঁর দ্য ফ্যাম’-এর হিসেব বলছে, জার্মানিতে বর্তমানে এমন বোকা মুসলিম মেয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। গত বছরের তুলনায় যা ১২ শতাংশ বেশি! সোমালিয়ার ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি ৯৮ শতাংশ মহিলাই এর শিকার৷