প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  সদ্য সমাপ্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদ লোকসভার ১৭তম নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে মমতা সরকারের ১৭ মন্ত্রী হেরে যেতেন! শুধু তাই নয়, কলকাতা সিটি করপোরেশনে তৃণমূলের প্রায় ২৬ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও হেরে যেতেন এবার।

 

 

 

 

 

ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এমন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ওয়ার্ডের বাসিন্দা, সেই ওয়ার্ডেও তৃণমূলের থেকে এগিয়ে বিজেপি। ভোটের ফলের নিরিখে হেরে যাওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন হোমরাচোমরা মন্ত্রীরাও। রয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বও।

 

 

 

 

যেমন রয়েছেন, জ্যেতিপ্রিয় মল্লিক, তিনি খাদ্যমন্ত্রী। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি এবং তৃণমূলের সহসভাপতিও। রয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং প্রভাশালী তৃণমূল নেতা তিনি। এদের একজন হেরেছেন হাবড়া থেকে অন্যজন কলকাতার রাসবিহারী আসন থেকে।

 

 

 

 

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষও হেরে যেতেন বিজেপির সঙ্গে লড়াই হলে। লোকসভার প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে হারতেন কলকাতার উপকণ্ঠের দু’জন বাঘা মন্ত্রী সুজিত বসু, পূর্ণেন্দু বসুও। এদের একজন রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক এবং অন্যজন বিধাননগরে বিধানসভার বিধায়ক।

 

 

 

 

আসানসোল থেকে হার মানতে হতো মন্ত্রী মলয় ঘটক, রামপুরহাট থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, সপ্তগ্রাম থেকে তপন দাশগুপ্ত, হাওড়া উত্তর আসন থেকে লক্ষ্মী রতন শুক্লা, কৃষ্ণনগর থেকে উজ্বল বিশ্বাস, বিনয়কৃষ্ণ বর্মন ফালাকাটা থেকে, চাকদা থেকে রত্না ঘোষ, তপন থেকে বাচ্চু হাঁসদা, বলরামপুর থেকে শান্তিরাম মাহাতো এবং কলকাতার শ্যামপুকুর থেকে হারের মালা পড়তে হতো শশী পাঁজাকেও।

 

 

 

 

শুধু তাই নয়, ২৯৪ বিধানসভার মধ্যে লোকসভার ভোটের ফলাফলের নিরিখে মোদীর দল বিজেপি এগিয়ে রয়েছে এখন ১২৯ বিধানসভা আসনে। বিধানসভার একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আসতে প্রয়োজন ১৪৮ বিধানসভার আসন। সেখানে দাঁড়িয়ে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১২৯ আসনে।

 

 

 

 

 

২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূল কংগ্রেস ২১১ টি আসন পেয়েছিল। যদিও পরের উপনির্বাচনগুলোতে দলটির জয়ের হিসাবে তৃণমূল বেড়ে দাঁড়ায় ২১৮ আসনে। অন্যদিকে তৃণমূলবিরোধী বামফ্রন্ট ৩২ আসন এবং বিজেপি জয় পায় ৩টি আসনে।এই মুহূর্তে যদি লোকসভার ফল বিশ্লেষণ করা যায়, তবে বিধানসভায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

 

 

 

 

 

এদিকে কলকাতা সিটি করপোরেশনে ১৪৪ আসনের মধ্যে বিজেপির পাওয়া লোকসভা ভোটের ফলের হিসাব ধরলে তৃণমূল এগিয়ে ৭৯ ওয়ার্ডে এবং বিজেপি এগিয়ে ২৬ ওয়ার্ডে।