প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। এই মাত্র বছর দশেক আগের ঘটনা। ২০০৮ সাল। শাসক বামেদের কল্যাণে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে জোর করে কৃষকদের জমি দখল নেওয়ার ঘটনার জেরে রাজ্য-রাজনীতি রীতিমতো উত্তাল। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ম্যানেজারদের এক-একটা ঔদ্ধত্যমূলক আচরণে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন। মানুষের মন থেকে সিপিএম ভীতি এবং প্রীতি আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। তারই মধ্যে ২০০৮ সালে বামেদের শাসনে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়। জমি আন্দোলনের প্রভাব পড়ে পঞ্চায়েতের ব্যালট পেপারে। ভোট গণনা শেষে ফলাফলে দেখা গেল, বেশ কিছু জেলা পরিষদ যেমন সিপিএমের দাদাগিরিতে চলা বামফ্রন্টের হাতছাড়া হয়েছে, পাশাপাশি রাজ্যের অর্ধেক গ্রামবাংলার দখল নিয়েছিল এখনকার শাসক তৃণমূল কংগ্রেস।

 

 

 

 

 

স্বাভাবিকভাবেই সেই পঞ্চায়েত ভোট-ই ছিল রাজ্যে বাম জমানার অবসানের সূত্রপাত। আর তারপরই বিরোধী শিবিরে উচ্ছ্বাসের বন্যা। তারা ধরেই নিয়েছিল, মানুষ ঘুরে গিয়েছে। সিপিএমের ভীতি আর প্রীতি থেকে বেরিয়ে বঙ্গবাসী বিরোধী শিবিরে ভিড়ে গিয়েছে। বাংলার মানুষ কংগ্রেস-তৃণমূল হয়ে গিয়েছে। হরলিক্স খেয়ে বেড়ে ওঠার মতো বিরোধী শক্তিও বাড়ছে।

 

 

 

 

 

 

কিন্তু, এই কথাটা কোনওভাবেই বিশ্বাস করতে পারেননি আমার স্বঘোষিত আদর্শ-‘গুরু’ বর্তমান পত্রিকার মালিক-সম্পাদক বরুণ সেনগুপ্ত। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ২০০৮ সালের পঞ্চায়েতের ভোটের ফলাফলে মোটেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও অবদান ছিল না। ওঁনার কথা ছিল, মানুষ সিপিএমের অত্যাচার থেকে বিরত চাইছিল। বিকল্প হিসেবে মানুষ মন্দের ভালো কংগ্রেস-তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। না, এটা কোন গল্প নয়। এটাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন বরুণবাবু। আমি তাই এর স্বপক্ষে দুটো ঘটনা উল্লেখ করব।

 

 

 

 

২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের ভালো ফলাফলের জন্য নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনকেই বেশি ফলপ্রসূ মনে করা হয়েছিল। আর সেই কারণেই রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েতের সাফল্যের বিজয় উৎসব পালন করা হয়েছিল নন্দীগ্রামের মাটিতেই। আমি তখন বর্তমান পত্রিকার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রিপোর্টার৷ ২০০৬ সাল থেকে নন্দীগ্রামের মাটিতে দিনের পর দিন পরে থেকে খবর করেছিলাম। পঞ্চায়েতে বিরোধীদের এই সাফল্যের কারণে নিজের মধ্যে একটা অন্য অনুভূতি কাজ করছিল সেই সময়।

 

 

 

 

 

তাই তৃণমূলের সেই বিজয় সমাবেশের দিন তমলুকের বাড়ি থেকে নন্দীগ্রামের উদ্দেশ্যে সবে বেরিয়েছি। বর্তমানের কলকাতা অফিস থেকে আগেই বলা হয়েছিল এই বিজয়সভা কভার করতে যাবেন জীবানন্দ বসু। তিনি এখন বর্তমান পত্রিকার প্রকাশক। তবে, আমার বর্ধমান অফিসের দক্ষিণবঙ্গ ব্যুরো চিফ পুলকেশ ঘোষ রাস্তাতেই ফোন করে বললেন, বিজয় সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বললেন, কী করলেন সে নিয়ে কোনও খবর করতে হবে না। ফটোগ্রাফারকে বলে দাও, মঞ্চের কোন ছবি দরকার নেই। ছবি হবে একদম পিছন থেকে। যেন শুধু জনতাকেই দেখা যায়। কথা শুনে আমি তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলাম! এত বড় একটা সমাবেশ হবে, তার কোন ছবি-খবর হবে না?

 

 

 

 

 

প্রশ্নটা করতেই পুলকেশদা বললেন, ‘বাবু (বরুণবাবুকে পিছনে আমরা সবাই “বাবু” বলেই ডাকতাম) মনে করেন, এই জয় কোনওমতেই মমতার জয় নয়। এটা মানুষের জয়। বাংলার মানুষ সিপিএমের দীর্ঘদিনের অত্যাচার, একগুঁয়েমি থেকে মুক্তি চাইছিল। তাই মানুষ সিপিএমকে ভোট না দিয়ে প্রধান বাম-বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে। এটাই “বাবু” মনে করেন। তাই তাঁর নির্দেশ মতোই আমাদের খবর করতে হবে৷’

 

 

 

 

 

সেই সময় আমি পুলকেশদার কথা মন থেকে মেনে নিতে পারিনি। খবর হবে না, এটা ধরে নিয়েই নন্দীগ্রামে পৌঁছই। মনে মনে ঠিক করেছিলাম, দিন শেষে ঠিক একটা বাই-লাইন কপি খাইয়ে দেব। সমাবেশ শুরুর কিছু আগে কলকাতা অফিস থেকে যাওয়া জীবাদার সঙ্গে দেখা হল। সকালে পুলকেশদার কথাগুলো ওনাকে বললাম। তিনিও সেই একই কথা আমাকে বোঝালেন। সেদিন নন্দীগ্রামের ওই মাঠে ঠিক কত লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল, তা বলে বোঝাতে পারব না। আমি মনে মনে ভাবলাম, এই জমায়েতের ছবি দেখলে, ঠিক আমার একটা কপি হবে। সিপিএমকে বাংলা থেকে উৎখাত করার সেই সমাবেশে মানুষের ঢল নেমেছিল।

 

 

 

 

 

সমাবেশ শেষে নন্দীগ্রাম থেকে তমলুকের বাড়িতে ফেরার পথে গাড়িতে বসে বর্ধমানের অফিসে খবর দেওয়ার কথা বলতেই, কেউ কোনও কপিই তুলতে চাইল না। গোটা রাস্তা আমি বোঝাতে বোঝাতে এলাম যে, এত বড় এতটা সভার খবর পরদিন বর্তমানে ছাপা হবে না? সিপিএমকে বাংলা থেকে তাড়াতে প্রচুর জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই সব ছাপা হবে না? পরদিন কিন্তু সব কাগজ এই খবর বড় বড় করে করবে। বর্তমানে সেটা হবে না? পুলকেশদা এবং আমার আর এক ‘বস’ তন্ময় মল্লিক কোনওমতেই কপি নিতে রাজি হলেন না। আমার অনেক অনুরোধের পরে পুলকেশদা বললেন, চার লাইনের একটা খবর লিখে দাও। মাঠে-ঘাটে কাজ করা একজন সাংবাদিক হিসেবে সেদিন খুব খারাপ লেগেছিল। সারারাত ঘুমোতে পারিনি।

 

 

 

 

 

 

পরদিন সকালের কাগজে দেখলাম প্রথম পাতায় মমতার বিজয় সমাবেশের কোন খবর নেই৷ অ্যাঙ্কারে জীবাদার একটা রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী খবর নন্দীগ্রাম সম্পর্কে৷ তাতে যদিও বাই-লাইনে তিনি আমার নামটাও রেখেছিলেন৷ গোটা কাগজে তৃণমূলের বিজয় উৎসবের খবরটা খুঁজে পেলাম না৷ হঠাৎ নজর পড়ল দ্বিতীয় পাতায় ঠিক গুনে গুনে ছ’লাইনের একটা খবর৷ নন্দীগ্রামে বিজয় সমাবেশ৷ হ্যাঁ, সমাবেশের একটা ছবি ছাপা হয়েছিল৷

 

 

 

 

তবে সেই সভার পিছন থেকে জমায়েতের ছবি৷ তাতে মঞ্চে বসা মমতা বা অন্য কোন নেতাকে দেখা যাচ্ছে না৷ বর্তমান পত্রিকার সম্পাদক বাংলার পঞ্চায়েত ভোটে জয়জয়কারের জন্য কোনওভাবেই তৃণমূল নেতৃত্বকে কৃতিত্ব দিতে চাননি৷ এমন কি সেই সময় বর্তমান কাগজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও ছাপা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ বরুণবাবুর একটাই কথা ছিল, এই জয় সাধারণ মানুষের৷

 

 

 

 

 

 

সত্য-মিথ্যে জানি না৷ এই বিষয়টি নিয়ে নাকি বরুণবাবুর সঙ্গে সম্পর্কটা বেশ খারাপ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর৷ সবটাই সিনিয়র সহকর্মীদের কাছ থেকে শোনা৷ তবে, তা যে সত্যই ছিল তার আভাস পেয়েছিলাম খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে৷ ২০০৮ সালের সম্ভবত নভেম্বর মাস৷

 

 

 

 

 

নন্দীগ্রামের হারানো জমি ফিরে পেতে অপারেশন সূর্যোদয় অভিযান করে সিপিএম৷ তখন নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্যের বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি তখন প্রায় পূর্ব মেদিনীপুরে যেতেন৷ কলকাতা ফিরতে না পারলে থাকতেন তমলুক শহরের গ্রিন ভ্যালি রিসর্টে৷ সমস্ত কাজ শেষে সন্ধ্যের পর আমরা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সেই রিসর্টে হাজির হতাম৷

 

 

 

 

 

এমনই একদিন গ্রিন ভ্যালি রিসর্টের ব্যালকনিতে বসে আড্ডা হচ্ছিল৷ সেই আড্ডায় ছিলাম আমি, তখনকার স্টার আনন্দের সাংবাদিক (এখন এবিপি আনন্দ) বিতনু চট্টোপাধ্যায় আর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই তিনজনের রাজ্য রাজনীতি নিয়ে নানা কথার মধ্যেই আমার মুখোমুখি বসা তৃণমূল নেত্রী বলে উঠলেন, ‘তোরা তো আমাকে কোনও গুরুত্বই দিচ্ছিস না৷ এতে তোর কোনও দোষ নেই৷ বরুণদা যে কী করছে কে জানে৷’

 

 

 

 

 

 

সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম, বাংলার পঞ্চায়েতের এত রমরমা পরেও বরুণবাবু তৃণমূলকে গুরুত্ব দিতে চাননি৷ তিনি ঠিকই মনে করতেন, বাংলার মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়েই অ্যান্টি-সিপিএম ভোট করেছে৷ তারপরও বিমান-বিনয়-সূর্যকান্তরা সাবধান না হওয়ার ফল ভুগতে হল ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে৷ সিপিএম বিরোধী মানসিকতার ভোট উপচে পড়ল তৃণমূলের ইভিএমে৷ বাংলা থেকে কার্যত বিদায় নিতে হল আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ম্যানেজারিতে চলা বামফ্রন্টকে৷

 

 

 

 

 

সদ্য হওয়া লোকসভা ভোটের ফলাফলে আমি তারই প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম৷ তৃণমূলের এমন খারাপ ফলাফল হবে, সেটা অনুমান করতে পারছিলাম বেশ কিছুদিন ধরেই৷ একটা কথা পরিষ্কার, বাংলার মানুষ রাতারাতি গেরুয়া বসন ধারণ করেনি৷ শহরের ঠান্ডা ঘরে বসে থাকা নেতা-তাঁবেদারি করা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বুঝতে পারেননি গোকুলে বাড়ছে বিজেপি৷ আসলে তা নয়, বিজেপি বাড়েনি৷ বেড়েছে শাসক দলের প্রতি বিতৃষ্ণা৷

 

 

 

 

কারণ রাতারাতি সবাই হিন্দু হয়ে যায়নি৷ জন্মগত হিন্দুদের বোঝাতে বাধ্য করা হয়েছে তুমি হিন্দু, তুমি বিপন্ন৷ এর জন্য দায়ী শাসকদলের সম্পদ অনুব্রত মণ্ডল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো আরও অনেকে৷ কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে এক কট্টর এবং ‘অন্ধ’ তৃণমূল ভক্তের পোস্ট৷

 

 

 

 

 

তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, গ্রামে গঞ্জে এমনকি শহরের কিছু নেতার এত ঔদ্ধত্য সাধারণ মানুষ মন থেকে মেনে নিতে পারেনি৷ রাতারাতি শাসকদলের নেতার জীবনযাপন রাজসিক হয়েও পড়াও পাশের বাড়ির খেটে খাওয়া মানুষটির নজরে পড়েছে৷ তারা চেয়েছিলেন সিপিএমকে হটিয়ে রাজ্যে একটা পরিবর্তন আনতে৷

 

 

 

 

 

 

জার্সি বদলেছে মাত্র, আক্ষরিক অর্থে সাধারণ মানুষের কোন পরিবর্তন হয়নি৷ এমন কি মাঝে মধ্যেই কানে আসে, কোনও কাজের জন্য আগে সিপিএমের একজন নেতাকে সন্তুষ্ট করলেই হয়ে যেত৷ এখন তো শাসকদলের একাধিকজনকে সন্তুষ্ট করতে হচ্ছে৷ তাই আড়ালে-আবডালে বলতেই শোনা গিয়েছে, আগেই ভালো ছিল৷ এ যেন খাল কেটে কুমির ডেকে আনা৷

 

 

 

 

 

 

২০১১ এবং ২০১৬ বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিচার করলে, ২০১৯ লোকসভা ভোটে কোনওমতেই তৃণমূলের এমন খারাপ ফল হওয়ার কথা নয়৷ মালদহের কালিয়াচক, ধূলাগড়, বসিরহাটের মতো হিংসার ঘটনাগুলি এলাকার মানুষ চাক্ষুষ করছে৷ সবটা প্রকাশ্যে না এলেও স্থানীয় বাসিন্দার শাসকদলের কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় মনে মনে জার্সি পালটে নিয়েছিলেন৷

 

 

 

 

 

হয়তো কেউ দলের কথা না ভেবে নিজের অস্তিত্বের কথা ভেবেছে৷ সেই কারণেই শাসকদলের ভিত হয়েছে নড়বড়ে৷ হয়তো বলব না, আমি প্রায় নিশ্চিত মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসে প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়েই বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন৷ তাই ৪২-এর মধ্যে ১৮টি লোকসভা আসন বিজেপি তার সংগঠনের জোরে পায়নি৷ এক কথায় বলা যেতে পারে, শাসকদলের বিকল্প হিসেবে গেরুয়া বোতামে ছাপ পড়েছে৷

 

 

 

 

 

লোকসভার ফলাফল ঘোষণার পর একটা কথা বার বার বলা হচ্ছে, বামেদের ভোট গেরুয়া শিবিরে পড়েছে৷ অঙ্কের হিসেবে ২০১১ সালের পর রাজ্যে বামফ্রন্ট বলে কিছু ছিল কি? সংগঠন রসাতলে গিয়েছে৷ ঋতব্রত, রেজ্জাক মোল্লার মতো মানুষ শিবির বদল করেছে৷ লক্ষ্মণ শেঠের মতো মানুষও গেরুয়া চাদর পরেছেন, পরে আবার কংগ্রেসে ভিড়েছেন৷

 

 

 

 

 

ফলে দলটার কী অবস্থা, তা সাদা চোখেই স্পষ্ট৷ আর সেই দলের ভোটারদের ভোটে বিজেপি ১৮টি আসন পেয়ে গেল, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়৷ এদিন যারা সিপিএমকে শিক্ষা দিতেই তৃণমূলকে শাসকের চেয়ারে বসিয়েছিল, তারই একটা বড় অংশ হতাশ হয়েই বিকল্প বিজেপির হাত শক্ত করেছে৷ আর তার জন্য বিজেপির এত উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোন কারণ নেই৷ বাংলার মানুষ এত বোকা নয়৷ তাদের বোকা ভাবাটা খুব ভুল সিদ্ধান্ত হবে৷

 

 

 

 

 

লোকসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ নেতা সংযত হলে ভবিষ্যতে ফলটা অন্য হতে পারে৷ অসংযমী নেতাদের উপর রাশ টানতে না পারলে, তৃণমূলকেও বিদায় নিতে হবে৷ আর হ্যাঁ, আজ বিজেপির হাত শক্ত করছে কারা? সেই তৃণমূলের মুকুল রায়, অর্জুন সিংহের মতো নেতারা৷ আসলে ছবিটা কি পাল্টালো? একদমই নয়৷ বিদেশি বোতলেই দেশিতে ভরছে৷ বাংলায় লোকসভার এত ভালো ফলের জন্য বিজেপির নিজস্ব কৃতিত্বের চেয়ে শাসকদলের ঔদ্ধত্য অন্যতম কারণ৷ ঠিক যেমনটা বরুণবাবু বলেছিলেন, এই সরকার-বিরোধী সাধারণ মানুষের জয়৷ কোনও রাজনৈতিক দলের নয়৷