প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাগণ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় তা খেলাপী হয়ে যাওয়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে স্বাভাবিক ঋণ প্রবাহ বজায় রাখাসহ খেলাপী ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্তে বিআরপিডি সার্কুলার নং-৫ তারিখ ১৬/৫/১৯ এর মাধ্যমে সকল তফসিলি ব্যাংকসমূহকে নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে। একই দিনে ০৪ নং সার্কুলারে ভালো ঋণ গ্রহীতাদেরকে প্রণোদনা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

এই ৫ নং সার্কুলারে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ ভিত্তিক হিসাবকৃত স্থিতি মোতাবেক ন্যূনতম ২% ডাউন পেমেন্ট নগদ গ্রহণ করে ৯% সুদে সর্বোচ্চ ১ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে মন্দ/ক্ষতিজনক, মানে শ্রেণীকৃত খেলাপী ঋণ ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

এ সার্কুলার জারির ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনারোপিত সুদের সম্পূর্ণ অংশ এবং Interest Suspense A/C এ রক্ষিত সুদ মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, ৪ নং সার্কুলার মোতাবেক ২% ডাউনপেমেন্ট এবং ৩৬০ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট অর্থ এক সাথে জমা দিয়ে এককালীন এক্সিটের ব্যবস্থাও রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

খেলাপীর কারণে শেয়ার মার্কেটসহ ব্যবসা বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব এবং ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট সকলকে ভাবিয়ে তোলে। এটা অনুধাবন করে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কিছুদিন আগে থেকেই ঋণ খেলাপী দূর করতে কিছু সুবিধা/ছাড় দেয়ার কথা বলে আসছেন। তখন থেকেই সারাদেশে এর পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। সুদ মওকুফ, স্বল্প সুদ ও দীর্ঘ মেয়াদি কিস্তি সুবিধার সুযোগ নিতে ইচ্ছেকৃতভাবে ভালো ঋণ গ্রহিতাও ঋণ খেলাপী হবে এবং খেলাপী আরো বাড়বে; এমন আশঙ্কায় অনেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

 

 

 

 

তবে সার্কুলারে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ এর পর খেলাপী হওয়া কেউ এ সুবিধার আওতায় আসবে না উল্লেখ থাকায় সে আশঙ্কা কেটে যায়। অনেক ব্যবসায়ীই একে স্বাগত জানাচ্ছেন। ঋণ খেলাপী কমিয়ে ব্যাংক এবং ব্যবসা বাণিজ্য রক্ষা করতে বাস্তবিক অর্থে এমন একটি সিদ্ধান্তের কোনো বিকল্প ছিল না।

 

 

 

 

 

 

একটা সময় বড় বড় ঋণ খেলাপীদের সামান্য ডাউন পেমেন্ট দিয়ে রি-শিডিউলের সুযোগ দেয়ায় ছোটদের হতাশ হতে দেখা যেত। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর দৃঢ়তায় এই সুবিধাটি সার্বজনীন হওয়ায় এবং ভালো ঋণ গ্রহীতাদের প্রণোদনা দেয়ার সুযোগ রাখায় ব্যবসায়ী মহলে সন্তুষ্টি বিরাজ করছে। ফলে, সাথে সাথেই শেয়ার বাজারে চাঙ্গাভাব ফিরে আসে।

 

 

 

 

 

যদিও হাইকোর্টের রিটে এটি আটকে গেছে। তার পরেও আমাদের ধারণা ব্যাংক, ব্যবসায়ী এবং দেশের স্বার্থে আইনগত প্রক্রিয়াতেই এ সুবিধার ধার দ্রুত উম্মোচিত হবে। আর এর জন্যে দায়িত্বশীলদের কার্যকর পদক্ষেপ কাম্য।লেখক: মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম, ব্যাংক কর্মকর্তা