প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এবারের ঈদুল ফিতর কাটতে পারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসাপতালে। তাঁকে হাসপাতাল থেকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও শিগগিরই তা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। গত বছর তাঁর ঈদ কেটেছিল পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে।

 

 

 

 

 

গতকাল শনিবার পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নবনির্মিত নারী ইউনিট বুঝে পায়নি কারা কর্তৃপক্ষ। কবে নাগাদ পাবে, তা-ও এখনো নিশ্চিত নয়। কারাগারের নারী ইউনিট বুঝে নেওয়ার জন্য কিছুদিন আগে গণপূর্ত বিভাগ চিঠি পাঠায়। কারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে সব কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে পুরো কাজ শেষ করে দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আরো কিছু কাজ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ঈদুল ফিতর সামনে চলে আসায় হস্তান্তরপ্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঈদের সময় খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেই থাকতে পারেন।

 

 

 

 

 

 

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুখের ঘা শুকিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, খাবার খেতে গিয়ে কামড় লেগে তাঁর মুখের ভেতর ঘা দেখা দিয়েছিল। এ কারণে তিনি কয়েক দিন ভাত খেতে পারেননি। তাঁকে জাউজাতীয় খাবার দেওয়া হয়। এই খাবার খাওয়া নিয়ে কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ হতেও দেখা যায়।

 

 

 

 

 

খালেদা জিয়ার খবর রাখে-এমন একটি সূত্র গতকাল কালের কণ্ঠকে জানায়, খালেদা জিয়ার মুখে ঘায়ের মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। এ কারণে তাঁর ভাত খেতে সমস্যা হচ্ছিল। এখন তাঁর মুখের ঘা শুকিয়েছে। তিনি আগের মতোই ভাত খেতে পারছেন। খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে স্থানান্তর করা হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। কারা সূত্রেও জানা গেছে, কারাগারে নতুন তৈরি করা নারী ইউনিটে খালেদা জিয়ার থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

 

 

 

 

 

কারা সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রথমে পুরুষ বন্দিদের জন্য ভবন তৈরি করা হয়। নারী বন্দিদের জন্য ভবন তৈরির কাজ শুরু হয় অনেক পরে। ফলে পুরান ঢাকা থেকে পুরুষ বন্দিদের কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়া হলেও নারী বন্দিদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল কাশিমপুর কারাগারের নারী ইউনিটে।

 

 

 

 

 

সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নারী ইউনিটের কাজ শেষ হয়েছে। এখন গণপূর্ত বিভাগ ওই ইউনিটের ভবনগুলো হস্তান্তর করলেই নারী বন্দিদের সেখানে রাখার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ কারাগারের নারী ইউনিটে একটি তিনতলা, একটি চারতলা ও একটি  দোতলা ভবন করা হয়েছে। তিনতলা ভবনটিতে রাখা হবে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের। আর চারতলা ভবনে রাখা হবে সাধারণ নারী বন্দিদের। তিনতলা ভবনে হাসপাতালও করা হয়েছে, যেখানে শুধু নারী বন্দিরাই চিকিৎসা নিতে পারবেন। সেখানে একটি কিশোরী সেলও করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

কারা সূত্র জানায়, তিনতলার ডিভিশন সেলের ভিআইপি সেলে খালেদা জিয়াকে রাখার বিষয়ে ভাবছে কারা কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।