প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:এমন ‘হট ফেভারিট’ হিসেবে কখনো কোনো বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু করেনি ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে হারকে অঘটনের ব্র্যাকেটবন্দি করলে দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাকি তিন ম্যাচেই তো জিতেছে তারা স্বচ্ছন্দে। আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতে সেমিফাইনালের পথে স্বাগতিকরা এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ—এর বাইরে অন্য কিছু ভাবছে না ক্রিকেটবিশ্ব।অথচ আফগানরা এই বিশ্বকাপে অঘটন ঘটাবে বলে পূর্বানুমান করেছিলেন অনেকে।

 

বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচে অন্তত এর প্রতিফলন নেই। অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে তারা। আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অন্য কিছু করবে—সে বিশ্বাসের লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন।কাল ইংল্যান্ডের ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তারই প্রতিচ্ছবি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের চেয়ে গণমাধ্যমের বেশি আগ্রহ এউইন মরগান, জেসন রয়ের ইনজুরি, লিয়াম প্লাংকেটের অসুস্থতা, আদিল রশিদের ফর্মহীনতা আর নকআউট পর্বের আগে স্কোয়াডের সবাইকে খেলার সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে পিঠে ব্যথা পান মরগান, হ্যামস্ট্রিংয়ে জেসন।

 

প্রথমজন আজ নিজে খেলার ব্যাপারে আশাবাদ জানানোর পাশাপাশি পরেরজনের না খেলাও নিশ্চিত করেছেন, ‘আমার পিঠের খুব দ্রুত উন্নতি হয়েছে। গত কয়েক দিনের চেষ্টার ফল মিলেছে। ম্যাচের দিন সকালে পিঠের কী অবস্থা থাকে, তার ওপর এখন সব কিছু নির্ভর করছে। তবে আশা করছি আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্য ফিট হয়ে যাব। জেসনের ব্যাপারটি তেমন নয়। ও আগামী দুই ম্যাচ খেলতে পারছে না নিশ্চিতভাবে। তবে আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপে ওকে আমরা আবার পাব। কাল (আজ) ওর বদলে খেলবে জেমস ভিন্স।’

 

প্লাংকেট কাল অনুশীলন করেননি দলের সঙ্গে। তবে ওই পেসারের ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মরগান, ‘অসুস্থতার কারণে প্লাংকেট আজ দলের সঙ্গে অনুশীলনে আসেনি। এটি সতর্কতামূলক। ওর থেকে সংক্রামক জীবাণু যেন অন্যদের মাঝে না ছড়ায় এবং কালকের ম্যাচের একাদশে থাকার সবচেয়ে ভালো সুযোগ যেন ওর থাকে।’ লেগ স্পিনার আদিল রশিদের সামনে ঢাল হন ইংলিশ অধিনায়ক, ‘আমি আপনার সঙ্গে একমত নই যে আদিল ওর সেরাতে নেই। আমি মনে করি, শেষ দুই ম্যাচে ও নিজের সেরায় ফিরেছে। আদিল দুর্ভাগা, কারণ ওর বলে দুটি ক্যাচ পড়েছে। আমি মনে করি, ও খুব ভালো বোলিং করছে।’প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না মরগান।

 

সেটি ইংল্যান্ডের গায়ে হট ফেভারিটের তকমা সেঁটে দেওয়া সত্ত্বেও, ‘এর আগেও কয়েকটি ম্যাচে আমাদের হট ফেভারিট হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। সেগুলোতে যেমন আয়েশি না হয়ে সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, আফগানিস্তানের বিপক্ষেও তাই করব। বিশ্বকাপ শুরুর আগে বলেছি যে ওরা টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলকে হারাবে। সেটি এখনো পারেনি বলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য বেশি চ্যালেঞ্জিং।’

 

প্রতিপক্ষের ঘূর্ণি-বোলারদের কথা বলেছেন তিনি আলাদা করে, ‘আফগানিস্তানের দারুণ তিনজন স্পিনার রয়েছে। এটি সম্ভবত দল হিসেবে ওদের সবচেয়ে শক্তির জায়গা। এটি অবশ্যই এমন এক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের জিততে হবে। উপমহাদেশের দলের বিপক্ষে খেললেই আমাদের এমন বাধার মুখোমুখি হতে হয়।’কিন্তু আফগানদের স্পিন বোলিং বিশ্বকাপে কার্যকর হচ্ছে না ততটা। লেগ স্পিনার রাশিদ খানও না।

 

কারণ হিসেবে উইকেটকে সামনে নিয়ে আসেন কাল আফগানিস্তান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব, ‘প্রতিবার মাঠে নামলেই চাই, উইকেট যেন স্পিন সহায়ক হয়। কিন্তু এখানকার উইকেটে তো তেমন স্পিন ধরবে বলে মনে হচ্ছে না। গত দুই-তিন বছর আমরা যেমন ক্রিকেট খেলছি ও সাফল্য পাচ্ছি—তাতে স্পিনের বড় ভূমিকা। উইকেটে স্পিন থাকলে তাই আমাদের জন্য ভালো।’

 

রশিদের ফর্মে ফেরার অপেক্ষায়ও আছেন তিনি, ‘রশিদ সব সময় আক্রমণাত্মক বোলিং করে। তবে ইংল্যান্ডের উইকেট ওর বোলিংয়ের জন্য আদর্শ নয়। আশা করছি, সামনের ম্যাচগুলোয় ও উইকেট থেকে সহায়তা পাবে।’ইংল্যান্ডের সঙ্গে এর আগে শুধু একটি ওয়ানডেই খেলেছে আফগানিস্তান। ২০১৫ বিশ্বকাপের সে ম্যাচে হার; যেমনটি মুখোমুখি দুই টি-টোয়েন্টিতেও। এ ম্যাচে জয়ের কথা তাই জোরেশোরে বলেন কিভাবে আফগান অধিনায়ক। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খেলার আশা নাইবের, ‘আমরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু গত এক-দুই বছরে যেভাবে খেলছিলাম, বিশ্বকাপে তেমনটা খেলতে পারছি না। চারটি ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী একেবারেই খেলতে পারিনি। আশা করছি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলতে পারব।’

 

তবে অঘটনের আশা ছেড়ে দেননি একেবারে, ‘অব্যশই আমরা জিততে চাই। তবে বিশ্বকাপের ম্যাচ জেতা সহজ নয়। এখানে সহজ দল বলে কিছু নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি কিছু অঘটন যেন ঘটাতে পারি, যেন ম্যাচ জিততে পারি। সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’সে অঘটন ঘটবে আজ-এমন ভাবনার লোক বড়ই কম!