প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: ভারতের এলগিন রোডের একটি শপিংমলের কাছে ইতি-উতি ঘোরাফেরা করছিলেন একদল যুবক। প্রত্যেকেই নামী কলেজের ছাত্র। তাদের মধ্যে একজন, কাকে যেন ফোন করেই চলেছেন। মিনিট দশেক পর অবশেষে বাইকে করে নির্দিষ্ট স্থানে হাজির হন এক যুবক। হাতে পুরিয়া দিয়েই চলে যান।

 

 

 

 

দ্বিতীয় ঘটনা সল্টলেকের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে কিছুটা দূরে। সেখানে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এক ব্যক্তি। কিছু ক্ষণ পর তিন-চারজন যুবক সেখানে পৌঁছান। পুরিয়া হাতে পেতেই যে যার মতো এলাকা ছাড়েন।

 

 

 

 

কলকাতা এবং সল্টলেকের বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এভাবেই সব ‘অপরিচিত ব্যক্তিদের’ আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। কখনো ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাংশের শিক্ষার্থীরা আবার ওই ‘অপরিচিত ব্যক্তিদের’ সঙ্গে দেখা করছেন জনবহুল এলাকায়। কখনো পানশালায় অথবা শপিংমলের আশপাশে।

 

 

 

 

আসলে কম বয়সীদের কাছে পুরিয়ার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, চাহিদা মতো মাদক। আর এই মাদক মিলছে একটা ফোনেই। অথবা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অর্ডার দিয়ে।

 

 

 

শুধু বলতে হবে, কোথায়, কখন, কী ধরনের মাদক লাগবে! কলকাতা জুড়ে মাদকের কারবারিরা এমনই নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছে। মাদক কারবারিদের এই নেটওয়ার্কে জড়িয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরাও। তাদের মাধ্যমেই মাদকের জাল ছড়িয়ে পড়ছে কলেজে কলেজে।

 

 

 

মাদক বিক্রেতাদের টার্গেট মূলত কম বয়সী গ্রাহক। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের এভাবেই মাদক সরবারহ করে চলেছে বিক্রেতারা। এই তালিকায় হেরোইন থেকে শুরু করে ব্রাউন সুগার, গাঁজা-সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক রয়েছে।

 

 

 

মাদকের এই কারবারীদের পর্দা ফাঁস করতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে কলকাতা পুলিশ। একইভাবে বিধাননগর পুলিশ এবং নার্কোটিক্স কন্ট্রোল বুর‌্যোর অফিসারেরাও নজরদারি চালাচ্ছেন।

 

 

 

 

পুলিশ বলছে, চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাদক। এক গ্রাম ব্রাউন সুগার বিক্রি হচ্ছে, ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। হেরোইন মিলছে, হাজার থেকে দু’হাজার টাকা (প্রতি গ্রাম)। ইয়াবা ট্যাবলেটও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৫০ গ্রাম মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট মিলছে প্রায় এক লক্ষ টাকায়। তবে তা নির্ভর করছে গুণগত মানের উপরে। যেমন টাকা তেমন চড়া নেশার জন্যে মাদক!

 

 

 

 

সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতা থেকে কয়েক জন কলেজছাত্রকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের মাদক দমন শাখা। তাদের জেরা করে এই চক্রের পাণ্ডাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে বলে জানান এক পুলিশ কর্মকর্তা।

 

 

 

 

মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকা থেকে দু’জন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে জালে পড়ে শেখ লাতিফউদ্দিন এবং হুসেন সাহা রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শেখ রাজাকে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ব্রাউন সুগার (২৭০ গ্রাম) পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

 

মাদক দমন শাখার অনুমান, এই চক্রের জাল কলকাতা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও ছড়িয়ে রয়েছে। এরই মধ্যে কলকাতা, সল্টলেক এলাকাতে বহু মাদক বিক্রেতা জালে পড়েছে। আরও কয়েক জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।