প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ভক্ত-সমর্থক ও পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের তোপের মুখে রয়েছেন সরফরাজ আহমেদ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতশ্রী পারফরম্যান্স। সবচেয়ে বড় বিপত্তিটা ঘটে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারায়। ভারতের বিপক্ষে হারের পর থেকে সরফরাজকে রীতিমতো ধুয়ে দেন ভক্ত-সমর্থক ও পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা।

 

 

গেল ১৬ জুন ওল্ড ট্রাফোর্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে সরফরাজ আহমেদের দল। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে হার মেনে নিতে পারেননি পাকিস্তানের একজন সমর্থক। তাই তো ইংল্যান্ডে বসে সরফরাজকে অপমান করে বসেন ওই ভক্ত। সেটাও আবার পাকিস্তান অধিনায়কের ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের সামনে!

 

 

ছেলের সামনে স্বামীর অপমান মেনে নিতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়কের স্ত্রী সৈয়দা খুশবখত। কেবল তাই নয়। স্বামীকে অপমান করার ভিডিওটি দেখে রীতিমতো কেঁদে ফেলেন তিনি। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন সরফরাজ।

 

 

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে লন্ডনের একটি শপিং মলে গিয়েছিলেন সরফরাজ। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিলেন পাকিস্তানের এক সমর্থক। সরফরাজকে শপিং মলে ঢুকতে দেখে মোবাইলের ক্যামেরা অন করে নেন তিনি। এরপর সরফরাজ কাছে আসতেই তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ভাই আপনি শুয়োরের মতো মোটা কেন! আপনি পাকিস্তানের নাম উজ্জ্বল করেছেন।’

 

 

এ সময় সরফরাজের কোলে ছিল তার ছেলে। তবুও থামেননি পাকিস্তানের ওই সমর্থক। সরফরাজকে কেবল অপমান করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। পাকিস্তান অধিনায়ককে অপমান করার ভিডিও ধারণ করে  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পোস্ট করেন ওই সমর্থক।

 

 

মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। এমনকি ভিডিওটি সরফরাজের স্ত্রীর চোখও এড়ায়নি। কিন্তু ছেলের সামনে স্বামীকে এভাবে অপমান করতে দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি সরফরাজ-পত্নী। এই ভিডিও দেখার সঙ্গে সঙ্গে হোটেল রুমে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

 

 

ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সরফরাজ বলেন, ‘আমি যখন হোটেলে ফিরে আসি তখন দেখি আমার স্ত্রী ওই ভিডিও দেখে ফেলেছে এবং কান্না করছে। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, এটা কেবল একটা ভিডিও। এটা সিরিয়াস তেমন কিছু নয়। আমাদের শক্ত হতে হবে। এটা আমাদের জীবনের একটা অংশ। যখন আমরা ভালোভাবে পারফর্ম করতে পারবো না, তখন আমাদের এগুলোর মধ্য দিয়েই যেতে হবে।’