প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া, কয়েকজন নেতা কারাবন্দি থাকা এবং ২০১৩ সালের পর বিভিন্ন সময়ে নাশকতার মামলায় নেতারা আসামি হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে জামায়াত। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধন হারানোর পর তারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারছে না।

 

 

 

 

এ অবস্থার মধ্যেও দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধেই রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকার চেষ্টায় রয়েছে দলটি। এ অবস্থায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে ড. অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন ‘মুক্তি মঞ্চে’ যোগ দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষা শুরু হয়েছে জামায়াতকে নিয়ে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ দলীয় জোট ছাড়বে না জামায়াত।

 

 

 

 

বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণেই তারা শেষ পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটে থাকতে চায়। তবে বিএনপি যদি তাদের ছেড়ে দেয় সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে যাতে বন্ধুহীন হয়ে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যে ‘হাতের পাঁচ’ বা বিকল্প হিসেবেই অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে থাকতে চায় তারা।এ বিষয়ে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রথমবার্তাকে বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নেই। আমরা দলীয়ভাবে ২০ দলীয় জোটে আছি। এখনো এই জোট ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

 

 

 

 

একাদশ জাতীয় সংসদের আগে প্রতিথযশা আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলে জামায়াতকে জোটে না রাখার জোর দাবি ওঠে। কার্যত গণফোরাম নেতাদের পক্ষ থেকে ওই দাবি তোলা হয়। বিএনপির একটি অংশও ভেতরে ভেতরে এই দাবির প্রতি সমর্থন জানায়। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জামায়াতকে জোটের বাইরে ঠেলে দিতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় জামায়াতকে জোটে রেখেই নির্বাচনে লড়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট। বিষয়টি মাথায় রেখেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেই থাকার পক্ষে জামায়াত।