প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত চীন সফর নিয়ে সোমবার সরকারি বাবভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যিই (দেশের) অর্থনৈতিক উন্নয়ন চান, এটা (গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি) গ্রহণ করতে হবে।’বাংলাদেশ এখন ৮.১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানিতে আমরা পর্যাপ্ত মনযোগ দিয়েছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়িয়েছি।’

 

 

 

 

 

 

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য জ্বালানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে, কিন্তু এলএনজি আমদানি ব্যয় অনেক।তিনি বলেন, প্রতি ঘন মিটার এলএনজি আমদানিতে ৬১.১২ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে তা প্রতি ঘন মিটার মাত্র ৯.৮ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরও ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।’

 

 

 

 

দুটি পথ খোলা রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, হয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি না বাড়িয়ে এলএনজি আমদানি কমিয়ে দেয়া অথবা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মূল্যবৃদ্ধি গ্রহণ করে নেয়া।প্রতিবেশী ভারতের সাথে গ্যাসের মূল্যের তুলনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের চেয়ে গ্যাসের মূল্য এখানে অনেক কম। ভারতে বছরে দু’বার গ্যাসের মূল্য এডজাস্ট (সমন্বয়) করা হয়। প্রথমবার এপ্রিলে পরে অক্টোবরে।প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতে প্রতি ঘন মিটার গ্যাসের দাম গৃহস্থালীতে স্থানভেদে ৩০ থেকে ৩৭ টাকা, আর বাংলাদেশে মাত্র ১২.৬০ টাকা।

 

 

 

 

 

শিল্পে বাংলাদেশে প্রতি ঘন মিটার গ্যাসের মূল্য ১০.৭০ টাকা। আর ভারতে তা ৪০ থেকে ৪২ টাকা, সিএনজিতে বাংলাদেশে প্রতি ঘন মিটার গ্যাস ৪৩ টাকা, ভারতে ৪৪ টাকা। বাণিজ্যে বাংলাদেশে ২৩ টাকা আর ভারতে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা।গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাম-ডান সব একি কথা বলছে। ‘তারা ভুলে গেছে ৮-৯ বছর আগে কি অবস্থা ছিল।’শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪-০৫ সালে ভারত বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গ্যাস নিতে চেয়েছিল, কিন্তু খালেদা সরকার তা করতে দেয়নি।

 

 

 

 

 

 

তবে তিনি (শেখ হাসিনা) ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশের ভাগ নিশ্চিত করে ভারতকে অনুমতি দিতেন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি তখন সেই ভাগ নিত এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করত, তাহলে এলএনজি আমদানির প্রয়োজন হত না।