প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:রাজধানীর শ্যামলীতে মামলা দেয়ায় ট্রাফিক সার্জেন্ট কামরুল ও কনস্টেবল রোকনকে মেরে রক্তাক্ত করেছেন দুই মোটরসাইকেল আরোহী। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার সময় শ্যামলীর ১ নম্বর রোডে দায়িত্ব পালন করছিলেন সার্জেন্ট কামরুল ও কনস্টেবল রোকন। তখন কামরুল মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন না করায় ৩৭ ধারায় একটি মামলা করেন।

 

 

মামলা দিলে সার্জেন্টকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন সজীব ও ইয়াসিন। তখন সার্জেন্ট কামরুল তাদের চলে যেতে বললে সজীব ও ইয়াসিন হঠাৎ কনস্টেবল রোকনের হাত থেকে লাঠি নিয়ে সার্জেন্ট কামরুল ও কনস্টেবল রোকনকে পেটাতে থাকেন এবং কিল ঘুষি মারতে থাকেন। এতে করে একজনের নাক ফেটে রক্ত পড়তে দেখা যায় এবং দুজনেই আহত হন।

 

 

এ সময় স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ মিলে তাদের দুজনকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশ সার্জেন্ট ও কনস্টেবলকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সার্জেন্ট কামরুল যুগান্তরকে বলেন, আমি প্রতিদিনের মতো আজকেও শ্যামলীতে ডিউটি পালন করছিলাম। একটি মোটরসাইকেলকে আমি সিগনাল দিই।(যার নম্বর-ঢাকা মেট্রো হ৫৫-৪৫৫৯)। তার মালিকানা না থাকায় তাকে একটি মামলা দিই। তখন তিনি আমাকে বিভিন্ন হুমকি দেন এবং আমার ডিসির কাছে বিচার দেবে বলে হুমকি দেন। আমি বলি আপনি যা পারেন করেন।

 

 

পরে আমার মুখে থাকা মাস্ক টেনে খুলে ফেলে ইয়াসিন। এরপর আমাকে লাঠি দিয়ে ও কিল ঘুষি দিতে থাকেন। আমার পোশাক ছিড়ে ফেলেন। আমার কনস্টেবলকে ঘুষি দিয়ে নাক ফাটিয়ে দেন। ওদের সঙ্গে আরও একজন ছিল সে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

 

কনস্টেবল রোকন বলেন, মামলা দেয়ার পর দেখি স্যারের সঙ্গে কথাকাটাকাটি করছে। আমি কাছে আসতেই আমার হাত থেকে লাঠি নিয়ে স্যারকে ও আমাকে মারতে শুরু করেন তারা।

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর জোনের ট্রাফিক এসি কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ যুগান্তরকে বলেন, দুজনকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সার্জেন্ট কামরুল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।