প্রথমবার্তা নিজেস্ব প্রতিবেদন :  দুদকের সাহায্যে এই চেকের সাইনটি আসল না নকল সেটা জানার জন্য হস্তরেখা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হলে সেখান থেকে উত্তর আসে যে চেকের সাইনটি মামুন বিন কবিরের নয়।তারমানে এটি জাল সই।আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মাবলী অনুযায়ী পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি টাকা একাউন্ট থেকে উঠাতে হলে অবশ্যই সেই একাউন্টের মালিককে ফোন করে বিষয়টি অবগত করতে হবে মালিকের অনুমতি ছাড়া টাকা উঠানো যাবেনা।

 

 

 

 

 

কিন্তু এই টাকাগুলো পাঠানোর সময় একাউন্টের মালিক মামুন বিন কবিরকে ফোন না করে বরং ফোন করা হয়েছে এইচ এম মাহফুজুর রহমানকে এবং সেদিন কর্মকর্তা চৌধুরী তানিয়া শামস আর মাহফুজুর রহমানের মধ্যে প্রায় ২৪বার ফোনে কথা হয়েছে!এছাড়া বাংলাদেশ বাংকের নিয়মঅনুযায়ী এক একাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকের একাউন্টে টাকা পাঠানো হলে একটা নির্দিষ্ট অংকের অর্থ পজিটিভ পে হিসেবে কেটে নেওয়া হয় এবং সে টাকা কেটে নেওয়ার আগে একাউন্টের মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হয়।কিন্তু এই ৩৫ লক্ষ টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে সে নিয়মও মানা হয়নি।

 

 

 

 

 

 

অর্থাৎ ব্যাংক আর্থিক লেনদেনে গ্রাহক সুরক্ষার যে যে বিষয়গুলো নীতিমালায় রয়েছে তার একটিও মেনে চলেননি।মামুন সাহেবের অভিযোগের একবছরেরও বেশি সময় হয়ে গেলেও টাকার কোন সমাধান হয়না বরং ব্যাংক আইনত কোন রকম ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উল্টো মামুন সাহেবকেই দোষারোপ করতে শুরু করে ভুয়া অভিযোগ দেওয়ার জন্য।

 

 

আরো পড়ুন : ব্যাংকে টাকা জমা রাখার আগে একবার পড়ে দেখুন- পর্ব ১।

 

 

এখানে ব্যাংকের ভূমিকা কেমন রহস্যজনক মনে হচ্ছে তাইনা?এদিকে সংবাদমাধ্যমের তদন্তকারী কর্মকর্তারা নতুন করে তদন্ত করতে শুরু করলে হঠাত করে একদিন মামুন বিন কবির সাহেবের ফোন আসে।মামুন সাহেব সাংবাদিকদের জানান যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে ফোন করেছে এবং ফোন করে মামুন সাহেবের ব্যাংকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পয়ত্রিশ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার কথা বলেছে।ব্যাংকের ক্ষতিপূরণের কারণে মামুন সাহেব তার মামলা তুলে নিচ্ছেন।

 

 

 

 

আরো পড়ুন : ব্যাংকে টাকা জমা রাখার আগে একবার পড়ে দেখুন- পর্ব ২।

 

 

মামুন বিন কবির সাহেব ব্যাংকের বিভিন্ন প্রতারণার শিকার মানুষদের একটা উদাহরণ মাত্র,মামুন সাহেব ভাগ্যবান বলে নিজের টাকা ফেরত পেয়েছেন কিন্তু অধিকাংশ লোকই টাকা ফেরত পাননা।মামুন সাহেবের মত আরো অসংখ্য গ্রাহক বিশ্বাস করে বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ভবিষ্যতের সঞ্চয় জমা রাখার পর একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগ-সাজশে হারাচ্ছেন নিজেদের শেষ সম্বল।তাই সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এই বিষয়ে সঠিক নজরাদারিই আমাদের কাম্য।