প্রথমবার্তা বিনোদন প্রতিবেদক:  এবারও তাঁরা কেউ একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে বক্তৃতা করেননি। তবু রবিবার তাঁদের কলকাতার ধর্মতলার একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে উপস্থিতির তাৎপর্য ছিল আলাদা। তৃণমূলে অভিনেতা–সাংসদের তুলনায় এখনও আছেন শতাব্দী রায় এবং দেব। আগে ছিলেন তাপস পাল, সন্ধ্যা রায় এবং মুনমুন সেন।

 

 

 

 

তাঁদের মধ্যে গত বছর পর্যন্ত মিমি চক্রবর্তী এবং নুসরাত জাহান ছিলেন শুধুই টালিগঞ্জের অভিনেত্রী, যাঁরা তৃণমূলের প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন। এবার কিন্তু তাঁরা তৃণমূলের নির্বাচিত সাংসদ। জনপ্রতিনিধি। মিমি জিতেছেন যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে। যা কার্যত শহুরে কেন্দ্র। পক্ষান্তরে, নুসরাত জিতেছেন গ্রামীণ বসিরহাট কেন্দ্র থেকে। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে দু’টি আসনই ছিল তৃণমূলের। দুই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন যথাক্রমে সুগত বসু এবং ইদ্রিশ আলি।

 

 

 

 

 

হার্ভার্ডের অধ্যাপক সুগত এবার পেশাগত কারণে ভোটে লড়তে পারেননি। তাঁর জায়গায় খানিকটা চমকপ্রদভাবেই টলিউড অভিনেত্রী মিমিকে টিকিট দিয়েছিলেন মমতা। যাদবপুরের মতো একটি আসনে মিমি জিতবেন কিনা, তা নিয়ে  খানিকটা জল্পনাও ছিল। কিন্তু মিমি বিপুল ভোটে জিতেছেন। সংসদে গিয়েছেন এবং লোকসভায় তাঁর প্রথম বক্তৃতায় এলাকার দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন।

 

 

 

 

 

পক্ষান্তরে, নুসরাতকে মমতা টিকিট দিয়েছিলেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ ইদ্রিশের জায়গায়। ইদ্রিশকে তিনি উলুবেড়িয়া–পূর্ব বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে টিকিট দেন। ইদ্রিশ সেখানে জিতেছেন। যেমন নুসরাত জিতেছেন বসিরহাটে। সংখ্যালঘু–প্রধান ওই আসনটিতে নুসরাতকে দাঁড় করানো যে মমতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ছিল, ভোটের ফলাফলে প্রকাশের পর তা দলের শীর্ষনেতারাও স্বীকার করেছেন। ভোটের ফলাফলের পরেই নুসরাত পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন। সেই সময়েই তাঁর কেন্দ্রে উত্তেজনাও ছড়িয়েছে।

 

 

 

 

সেসব তিনি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। উপরন্তু, সংখ্যালঘু মুসলিম হয়েও শাঁখা–সিঁদুর পরে সংসদে যাওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নুসরাতকে ‘ট্রোল’ করা শুরু হয়েছিল। তিনি সেসব কুৎসারও যুতসই এবং কড়া জবাব দিয়েছেন।

 

 

 

 

সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এদিনই মিমি–নুসরাতের প্রথম তৃণমূলের কোনও বড় জনসভায় আত্মপ্রকাশ। বলা বাহুল্য যে, জনতা তাঁদের দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছে। সভা শেষে পর দুই সাংসদ মঞ্চের সামনে এসে জনতাকে পাল্টা অভিবাদনও জানিয়েছেন।

 

 

 

 

হ্যাঁ কখনোই তোমার ভুল আমি দেখিনি আগে, ইদানীং দেখছি। যাদের প্রতি তোমার প্রবল রেসপকেক্ট ছিল সেখানে ঘাটতি এসেছে। এটা তোমার ন্যাচারাল বিহেভিয়ার নয়। তোমার পারিপার্শ্বিক এনভায়রনমেন্ট। খারাপ বলছি না, কয়েকটা জায়গায় ত্রুটিপূর্ণ।