প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:পিকনিকের কারণে হইহই হচ্ছে সবসময়। অন্যদিকে সংস্কারের অভাবে মজে যাচ্ছে জলাশয়। তার ওপর নৌকায় চড়ে দিনভর নদী-বিল দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। এর বাইরেও গুলতি হাতে চোরাশিকারা তো রয়েছেই।

 

 

 

ভারতের শিলিগুড়ির উপকণ্ঠের ফুলবাড়ি ব্যারাজ থেকে এসব কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পরিযায়ী পাখির দল। অভিমানী পাখিদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য ফুলবাড়িতে ফলের চারা লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে অপ্টোপিক নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

 

 

 

সেই কর্মসূচিতে নিজের হাতে গাছ লাগিয়ে সবুজায়নের ভাবনা দেন ‘ফেলুদা’ খ্যাত অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। নিজ হাতে ফলের চারা পুঁতেছেন তিনি। আমলকি, জাম, পেয়ারা ছাড়াও আরো অনেক রকমের ফলের চারা রোপণ করেছেন। গাছ কেটে ফেলা নিয়ে মৃদু ধমকও দিয়েছেন এলাকাবাসীকে।

 

 

 

প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গাছে হাত দিলে কান মলে দিন। গাছ কেটে ফেলা তো একরকম আত্মহত্যাই। গাছ আমাদের বিনামূল্যে অক্সিজেন দেয়। গাছ ছাড়া নিঃশ্বাস নেব কী করে? গাছ কেটে, দূষণ ছড়িয়ে মানুষ যদি আত্মহত্যা করতে চায়, তো করুক।

 

 

 

মহানন্দা নদীকে নিয়ে ভারতের সেচ দপ্তরের মহানন্দা ব্যারেজ ডিভিশন, খাল রয়েছে। খালের পাশে প্রায় ১০ স্কয়ার কিলোমিটার জুড়ে স্থায়ী জলাশয় তৈরি হয়েছে। সেখানেই পাখিরা আসে। সারা বছর দেশি-বিদেশি নানা পাখির ভিড় লেগেই থাকে। শীতের ছোঁয়া পেলে শতাধিক পরিযায়ী পাখি ভিড় করতে শুরু করেছ সেখানে।

 

 

 

তবে গত দুই বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে ফুলবাড়িতে। গাছের সংখ্যাও কমে গেছে বিপজ্জনকভাবে। একটা সময় এখানে পিকনিক করতে ভিড় জমাতো পর্যটকরা। ফলে খালের পানিতে, আশপাশে জমে থাকত প্লাস্টিক-সহ আবর্জনা, থার্মোকলের থালা-সহ নানা রকম বর্জ্য পদার্থ। ক্রমশ বাড়তে থাকা দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে ওই এলাকা।

 

 

 

অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে প্রায় ৪০০-৫০০ গাছের চারা লাগানো হয়। স্থানীয় ক্লাবগুলোও সাহায্য করেছে। বৃক্ষ দিবস উপলক্ষে বছরে শুধু একদিন নয়, সারা বছরই গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সবুজে ভরে উঠুক ফুলবাড়ি। আবার ফিরে আসুক পরিযায়ীরা, সেটাই চান সবাই।