প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: বিভাগীয় মহাসমাবেশের পর উজ্জীবিত চট্টগ্রাম বিএনপি ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, শনিবারের মহাসমাবেশ থেকে দলের শীর্ষ নেতারা আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন।

 

 

 

 

 

আইনি প্রক্রিয়ায় নয়, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে- এমন বার্তা পেয়ে তৃণমূলে শুরু হয়ে গেছে আন্দোলনের প্রাথমিক প্রস্তুতিও।

 

 

 

 

 

চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা বলছেন, মামলা-হামলার পরও আমরা দমে যাইনি। দল সংগঠিতই আছে। যে কোনো মুহূর্তে রাজপথে নামার প্রস্তুতি দলের রয়েছে। মহাসমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি তারই প্রমাণ।নগরীর কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ওই সমাবেশের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। যে কোনো দলীয় কর্মসূচি দেয়া হলে তা সফল করতে মাঠে থাকবেন নেতাকর্মীরা।

 

 

 

 

 

বিএনপি নেতারা বলছেন, সমাবেশের অনুমতি দিতে পুলিশের কালক্ষেপণের পরও শেষ পর্যন্ত সমাবেশ সফল হয়েছে। জনসমাগম ছিল প্রত্যাশিত। মামলা ও নির্যাতনের ভয়ে এতদিন যেসব নেতাকর্মী দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেননি, তারাও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
এতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, যা আন্দোলনে নামতে ভরসা জোগাবে। যারা বলে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নিঃশেষ হয়ে গেছে, দলটির রাজপথে নামার সাংগঠনিক শক্তি নেই- এই সমাবেশের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়া সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

 

 

কথা হয় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই লালদীঘির মাঠে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আসছি।কিন্তু পুলিশ তাতে বাদ সাধছে। অনুমতি দেয়া হচ্ছে দলীয় কার্যালয়ের সামনের চত্বরে, এলাকাটি খুবই ছোট। শনিবারের সমাবেশ এই চত্বর ছাড়িয়ে এনায়েত বাজার মোড়, ওয়াসা মোড় ও চট্টেশ্বরী মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে।’

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির ৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং ১০ সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীরা।

 

 

 

 

 

শীর্ষ নেতাদের সবাই একবাক্যে বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। কেননা তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে হবে। এজন্য নামতে হবে রাজপথে। তাদের কাছ থেকে আন্দোলনের মেসেজ পেয়েছি। প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছি। পরবর্তী সময়ে আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হলে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।’

 

 

 

 

 

গত জাতীয় নির্বাচনের পর চট্টগ্রামে বড় ধরনের কোনো শোডাউন করতে পারেনি বিএনপি। ছোটখাটো দলীয় কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা।নির্বাচনের আগে নাসিমন ভবনের সামনেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ হয়। বিএনপি বলছে, ৪ জুন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। অনুমতি দেয়া হয়েছে সমাবেশের আগের দিন বিকালে। তাও ২৭টি শর্তে। এসব প্রতিবন্ধকতা না থাকলে উপস্থিতি আরও বাড়ত।

 

 

 

 

 

বিভাগীয় পর্যায়ের এই সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি- দুটিই দেখাতে পেরেছে বলে মনে করেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বলেন বিএনপির আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই।এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতা দেখিয়ে দিয়েছি। লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটেছে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল এতে।আশা করছি, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শিগগিরই কেন্দ্র থেকে বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি আসবে। এই সমাবেশ দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।’