প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: সমস্যাগ্রস্ত পিপলস লিজিং অবসায়নের পর এখন ব্যাংক বহির্ভূত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূত হতে চাইলে সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ জন্য ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে হবে।আর গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে এ মুহূর্তে কোনো প্রতিষ্ঠানের চেক যেন ডিজঅনার না হয় সে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যদিও সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তার কোনো সুযোগ নেই।

 

 

 

 

 

ভালো অবস্থানে থাকা কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি মঙ্গলবার গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে সেখানে এসব আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

 

সূত্র জানায়, বৈঠকে অন্তত ১২ জন এমডি উপস্থি’ত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর ছাড়াও উপদেষ্টা এসকে সুর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

 

 

 

 

কয়েকজন এমডি বৈঠকে বলেন, পিপলস লিজিং বন্ধের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এ খাতের আমানতকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীর পাশাপাশি অনেক ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। কেউ-কেউ নতুন করে আর মেয়াদ বাড়াচ্ছে না। এতে করে চাপে পড়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থা চলতে থাকলে পুরো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অথচ বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের অবস্থা অনেক ব্যাংকের চেয়ে ভালো।দু’একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। মানুষ যেন আতঙ্কিত হয়ে টাকা তুলে না নেয়, আস্থা না হারায় সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়। এরকম অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা চাওয়া হয়। একইসঙ্গে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর যেন যৌথ বৈঠক করে সে বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়।

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বিদ্যমান আইনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি তারল্য সহায়তা দেয়ার সুযোগ নেই। তবে সব ধরনের নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে অর্থ সংগ্রহে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে আমানত বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ড, সিকিউরিটিজ, কমার্শিয়াল পেপার ইস্যুর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ সংগ্রহে জোর দিতে হবে। এ মুহূর্তে কেউ টাকা তুলতে চাইলে কারও চেক যেন ডিজঅনার না হয়, কেউ যেন ফিরে না যায়।আর এ জন্য প্রয়োজনে ভালো অবস্থানে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের তারল্য সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদপূর্তির আগ পর্যন্ত বিনা কারণে কোনো ব্যাংক যেন টাকা তুলে না নেয় সে বিষয়ে ২১ জুলাইয়ের ব্যাংকার্স সভায় বলা হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

 

 

 

 

বৈঠক শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা ভালো। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের খারাপ অবস্থার কারণে পুরো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে শিগগিরই তারা একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন।

 

 

 

 

 

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি আরিফ খান বলেন, দু’একটা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খারাপ থাকতে পারে। দু’একটা ব্যাংকের অবস্থাও খারাপ রয়েছে। তার মানে পুরো খাত খারাপ বলা যাবে না। এ বিষয়ে নীতি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, ভারতে বড় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্য একটি ব্যাংকের মাধ্যমে তারল্য সহায়তা দিয়েছে। আমাদের এখানেও এরকম কিছু করা যায় কিনা সে বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়। আরও অনেক দেশে এরকম করা হয়েছে। এসব পরীক্ষা করে বাংলাদেশ ব্যাংক দেখবে। এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একটি লিখিত প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

আইপিডিসি ফাইন্যান্সের এমডি মমিনুল ইসলাম বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খারাপ রয়েছে সামনের দিনে কীভাবে ভালো করা যায়, সামনের দিনে যেন আর কোনো প্রতিষ্ঠান খারাপ না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি মনে করেন, আস্থার জায়গা ধরে রাখাটা সবচেয়ে বড় বিষয়। পিপলস লিজিংয়ের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বিষয়ে কঠোর।টাকা মেরে কেউ পার পাবে না, এটা প্রতিষ্ঠিত হলে ৯০ শতাংশ সমস্যা এমনিতেই সমাধান হয়ে যাবে। তখন কেউ টাকা মারতে চাইলে ভাবতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে দিকেই যাচ্ছে। অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এগোচ্ছে।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। শিল্পগু, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করছে। দু’একটা প্রতিষ্ঠানের কারণে এরকম একটা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না।