অবশেষে মেয়ে হিসেবে জীবনের সেরা সময় উপভোগ করতে চলেছেন এমিলি ট্রেসা।

 

 

 

 

 

বয়স সবে ১৭। নিউ হ্যাম্পশায়ারের হাই স্কুল পড়ুয়া টিনএজার লিঙ্গ পরিচয়ে ভুগছিলেন। ট্রেসা সর্বকনিষ্ঠদের মধ্যে একজন যিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ নির্দিষ্ট করেছেন। খবর সিবিএস নিউজের।

 

 

 

 

 

জুনে অস্ত্রোপচারের পর তিনি সিবিএস নিউজকে বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে যে আমি অবশেষে পরিপূর্ণতা পেয়েছি।

 

 

 

 

 

এমিলি জানান, জন্মের পর তাকে ছেলে বলে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু সব সময়ই জানতেন যে তিনি মেয়ে। এমিলি এবং তার মা অনুরোধ করেছেন যেন তাদের পারিবারিক শেষ নামের অংশ ব্যবহার না করা হয়।

 

 

 

 

 

‘আমি আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম, এটা কি কেবলই আমি? আমিই কি একমাত্র যার মনে এমন চিন্তা আসে? আমি কি ভুল কোনো দেহের ফাঁদে আটকে গেছি?’, বলেন এমিলি।

 

 

 

 

 

তার মা লিন্ডা। জানান, এমিলির এই রূপান্তরের সময়টাতে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকাল থেকেই তার নাম এবং লিঙ্গ সংশ্লিষ্ট আচার-আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রূপন্তর শুরু হয়।

 

 

 

 

 

পরবর্তিতে চিকিৎসক এবং মনোবিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় এমিলি ওষুধ গ্রহণ শুরু করে। ছেলে হিসেবে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানো রোধ করা এবং মেয়ের দৈহিক বৈশিষ্ট্য অর্জনের কাজগুলো চলতে তাকে।

 

 

 

 

 

মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের সেন্টার ফর ট্রান্সজেন্ডার মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি বিভাগের পরিচালক ড. জেস টিং এই অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

 

 

 

 

 

বলেন, এমিলি তার প্রজন্মের একেবারে পুরোভাগে আছেন। তার মতো কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা বুঝতে পারবেন যে, তারা আসলে কে? আর লিঙ্গ নির্ধারণে রূপন্তরকরণের প্রক্রিয়া এমনকি বয়ঃসন্ধিকালের আগেই সম্পন্ন করা সম্ভব।

 

 

 

 

 

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্যে লিঙ্গ নির্ধারণের এই অস্ত্রোপচার রীতিমতো ‘জীবন বাঁচানোর প্রক্রিয়া’ বলে বিবেচিত হতে পারে।

 

 

 

 

 

২০১৮ সালে পেডিয়াস্ট্রিক্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, তৃতীয় লিঙ্গের শিশুদের মাঝে অন্য শিশু অপেক্ষা আত্মহত্যা প্রবণতা অনেক বেশি থাকে।

 

 

 

 

 

লিন্ডা সিবিসি নিউজকে বলেন, আমরা পরিবারে আসলে একজনের মাঝেই একটা অসুখী ছেলে আর সুখী মেয়েকে দেখতে পেয়েছি। আমরা বুঝেছি যে, আমাদের একটা মৃতপ্রায় ছেলের চাইতে প্রাণবন্ত মেয়ে থাকা অনেক ভালো। আর এ কাজটা খুব বেশি কঠিন ছিল না।

 

 

 

 

 

নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ডে নিজের গল্পটা শেয়ার করছেন এমিলি। তিনি তার মতোই অন্য তৃতীয় লিঙ্গের শিশুদের সচেতন করতে চান। ‘তুমি আসলে যেমন তেমনটা প্রকাশ করতে কোনো বাধা নেই, পৃথিবীর কাছে নিজেকে তুলে ধরো’।