প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: দেশের ৫ বিভাগের ৩৫ জেলার ৯৮ উপজেলাই বন্যায় আক্রান্ত। এর মধ্যে ৫ জেলায় মৎস্য সম্পদের ক্ষতি ব্যাপক। অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভেসে গেছে মাছের খামার, পুকুর ও দীঘির মাছ। ফলে মাছ চাষীদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা।

 

 

 

 

 

এরমধ্যে অবকাঠামোগত ক্ষতিই প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। মৎস্য অধিদফতর বলছে, পানি বাড়লে বা দ্রুত পানি না কমলে মৎস্য সম্পদের ক্ষতি আরও বাড়বে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষীদের পুনর্বাসনে মাছের পোনা, মাছের খাবার, চুন ও সার প্রদানের কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে অধিদফতর।

 

 

 

 

 

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, পুকুর, খামার, দীঘির ক্ষতি ব্যাপক। বন্যার পানি না নামায় নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে এখনও।

 

 

 

 

 

ফলে মৎস্য সম্পদের সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ এখনই ঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ২১ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ ঠিক করা হয়েছে ৩৩৬ কোটি টাকা।

 

 

 

 

 

প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, বন্যা শেষে ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসনে বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে আপাতত ৩৩৬ কোটি টাকার ক্ষতি সামনে রেখেই পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

কথা হয় মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো. রাশেদুল হকের সঙ্গে। তিনি প্রথমবার্তাকে বলেন, এবারের বন্যায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে মৎস্য সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত মৎস্য সম্পদের ক্ষতির পরিমাণ ৩৩৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। বন্যার পানি আরও বাড়লে বা দ্রুত পানি না নামলে ক্ষতি অনেক বাড়বে।

 

 

 

 

 

তবে তিনি বলেন, মাছ ভেসে যাওয়াকে বিনষ্ট কিংবা ক্ষতি বলছি না। চাষীদের জন্য নিশ্চয়ই ক্ষতি, তবে ভেসে যাওয়া মাছ বিভিন্ন জলাশয়ে থেকে যায়। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সবাইকে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে মাছের পোনা, মাছের খাদ্য, চুন ও সার দেব। যাদের পুকুর, খামার, দীঘি ভেঙে গেছে তাদের সহযোগিতা দেয়ার কথাও আমরা ভাবছি।

 

 

 

 

 

অধিদফতর সূত্র জানায়, তথ্য নিয়ে বিভাগ অনুসারে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ের ক্ষতির হিসাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বরাদ্দ পেলে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে দ্রুত বিতরণ করা হবে। পানি নামার পর পরই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যজীবীরা যাতে পূর্ণোদ্যমে পেশায় ফিরতে পারে, সে জন্য নানামুখী সহায়তা দেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

সূত্র জানায়, বন্যায় ময়মনসিংহ জেলায় ১০ হাজার ৭৬৪টি পুকুর, দীঘি ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে প্রায় ৩ হাজার ৪২৮ টন মাছ ও ৫ কোটি ১২ লাখ পোনা। মাছের মূল্য ৩৭ কোাটি ৭০ লাখ টাকা এবং পোনার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সিলেট জেলায় ২ হাজার ৪৩৬টি পুকুর, দীঘি ও খামারের ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে ৩৮৫ টন মাছ, ১ কোটি ১৮ লাখ পোনা। মাছের মূল্য ৫ কোটি ৯৯ লাখ এবং পোনার মূল্য ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

 

 

 

 

 

রংপুর জেলায় ৪ হাজার ৩৪৯ পুকুর, দিঘী ও খামারের ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে ৮৯১ টন মাছ, ১ কোটি ১৮ লাখ পোনা। মাছের মূল্য ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং পোনার মূল্য ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চট্টগ্রামে ১৬ হাজার ৪৬৩টি পুকুর, দীঘি ও খামারের ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে ১২ হাজার ৪৪০ টন মাছ ও ২৩ কোটি ২০ লাখ পোনা। মাছের মূল্য ১৮১ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং পোনার মূল্য ৪০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। রাজশাহীতে ৫২২টি পুকুর, দীঘি ও খামারের ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে ১৪৫ টন মাছ ও ১ কোটি ২৮ লাখ পোনা। মাছের মূল্য ২ কোটি ৬০ লাখ এবং পোনার মূল্য ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।