প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:আর কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরুর খামারিরা।

 

 

গত কয়েক বছর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় দেশি জাতের প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা এসব গরুর কোরবানির বাজারে আলাদা কদর তৈরি হয়েছে।এবার ঈদের আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু না এলে লাভবান হওয়ার আশা খামারিদের।

 

 

খামারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পশুর যত্ন নিচ্ছেন খামারিরা। পশুগুলোকে রাখা হয়েছে শুষ্ক জায়গায়। ঘরের ভেতরে রয়েছে ফ্যান। খাওয়ানো হচ্ছে ঘাস, খড়, ভুসি ও খৈলসহ দেশীয় খাবার। গরু মোটাতাজাকরণে কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য খাওয়ানো হচ্ছে না বলে দাবি খামারিদের।

 

 

জেলার ঝিলিম এলাকায় অবস্থিত গরুর খামারের মালিক সেলিম রেজা জানান, আমরা গুরুর খাবারের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল। এখানে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার গরুকে খাওয়ানো হয়। মোটাতাজা করার জন্য কোন প্রকার রাসায়নিক খাবার দেয়া হয় না।

 

 

তিনি আরও জানান, তার খামারে ৮৫টি গরু প্রস্তুত, আর কয়েকদিন পর এগুলো ঢাকার হাটে পাঠানো হবে। এসব গুরুর আলাদা চাহিদা রয়েছে জানিয়ে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

 

 

আরেক খামার মালিক এস এম কামাল জানান, হাটে যখন অবৈধভাবে ভারত থেকে গরু আসে তখন আমাদের গরুর দর কমে যায়। তখন আমরা খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ি। ভারত থেকে গরু না আসলে আমরা লাভবান হব। গরুর খামারিদের এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

 

এদিকে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় জেলায় কোরবানির পশুর সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী।তিনি জানান, জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার। জেলার পাঁচ উপজেলায় ছোট বড় ১২ হাজার ৬২৪টি খামারে ৮৭ হাজার ৯৫৪ টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে।

 

 

এছাড়া পারিবারিকভাবে পালন করা হচ্ছে বাকি গবাদিপশু। এর ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোরবানির পশুর সংকট হবেনা।খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়ার পাশাপশি অসাধু উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ যাতে না হয় সে জন্য মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।