প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: ১৫ তলা ভবনের দশ তলার বারান্দার বাইরের কার্নিশে বিপদজনক অবস্থায় গ্রিল ধরে ঝুলে ছিলো খাদিজা নামের এক গৃহকর্মী।

 

 

 

 

রাজধানীর কাকরাইলের সার্কিট হাউস রোডের ‘গাউছিয়া ডাইনেস্টি নামক একটি বহুতল আবাসিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাটি দেখতে উৎসুক পথচারীদের ভিড় জমে যায়।

 

 

 

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দূর থেকে দেখা যাচ্ছিলো-মেয়েটিকে দেখতে ব্যালকনিটিতে একটু পরপর একজন নারী আসা–যাওয়া করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি গ্রিলের একটি তালা খুলে দেন। এরপর মেয়েটি নিরাপদ অবস্থানে ফিরে যায়।

 

 

 

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ভবনের দশম তলার (লিফটের ৯) ‘বি-১০’ ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। এম হাবিবুর রহমান ও লাভলী রহমান ওই ফ্ল্যাটে থাকেন।

 

 

 

 

পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ফ্ল্যাটের বারান্দায় ঝুলে থাকা মেয়েটির বিষয়ে জানতে চাইলে লাভলী রহমান বললেন, যে মেয়েটি ঝুলে ছিল তার নাম খাদিজা। তিনি জানান, খাদিজা ও হেলেনা তাঁর দুই গৃহকর্মী।

 

 

 

 

তাঁর দাবি, দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং ঝগড়ার একপর্যায়ে খাদিজা বারান্দার বেষ্টনীর ফোকর গলে বাইরে ঝুলে থাকে। লাভলী সবার সামনেই খাদিজাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

 

 

 

 

লাভলী একসময় আবু বকর নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করেন এবং বলেন আগামীকাল বুধবারের মধ্যেই যেন তিনি এসে খাদিজাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

 

 

 

 

 

লাভলী জানান, আবু বকর খাদিজার মামা এবং তিনিই এক বছর আগে খাদিজাকে লাভলীর কাছে রেখে যান। খাদিজার বাড়ি সিলেটে।

 

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম এবার লাভলী রহমানকে খাদিজাকে ডেকে আনতে অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

 

প্রথমে তিনি খাদিজাকে আনতে রাজি হননি। কয়েকবার অনুরোধের পর তিনি খাদিজাকে ডাকেন। তবে খাদিজা আসে না। তারপর জহিরুল ইসলাম নিজেই উঠে গিয়ে খাদিজাকে বসার ঘরে নিয়ে আসেন। খাদিজার বয়স ১৪ কি ১৫ বছর হবে।

 

 

 

 

খাদিজাকে সোফায় বসতে বললে লাভলী রহমান বাধা দিয়ে বলেন, ‘ও আমার চাকর ও কেন বসব! ও দাঁড়িয়েই থাকব।’ খাদিজা মাথা নত করে দাঁড়িয়েই থাকল। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাভলীকে অন্য ঘরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন।

 

 

 

লাভলী চলে যাওয়ার পর তিনি খাদিজার কাছে জানতে চাইলেন, কেন এমনটি করেছে। কিন্তু খাদিজা কোনো জবাব দিল না।

 

 

 

 

 

বারবার প্রশ্ন করেও তার মুখ দিয়ে একটি শব্দও বের করা গেল না। পরে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো কেউ তাকে মারধর করে কিনা। সে মাথা নেড়ে জানাল, কেউ তাকে মারে না। কিন্তু জানা গেল না, কেন সে বারান্দার বাইরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে ছিল।

 

 

 

 

বের হওয়ার সময় লাভলী পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলামকে জানালেন, তিনি খাদিজার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করবেন। ভবনের নিচে এসে ভবন ম্যানেজার আবদুস সাত্তারের সঙ্গে কথা হলো। তিনি জানালেন, খাদিজা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। খাদিজাকে তিনি আজই প্রথম দেখলেন।

এই বিভাগের আরো খবর :

ক্যাসিনো সরঞ্জাম আসে কম্পিউটার-ফার্নিচারের আড়ালে
পড়াশোনার চাপ : ভারতে প্রতি ৫৫ মিনিটে একজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
জানা গেল ২০১৭ সালে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন
১৫৫ বছর পর বদলাচ্ছে কয়েদিদের খাবার
প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করলেন বিএনপির সিনিয়র নেতা!
ঢাকা শহরের ট্রাফিক শৃঙ্খলায় ফের মাঠে নামছে পুলিশ
জ্বালাও-পোড়াও আর হচ্ছে না : বাণিজ্যমন্ত্রী
মাশরাফি হাসপাতালে ২০০ ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট দিলেন
বার্নিকাটের ওপর হামলা যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শামিল: ফখরুল
জাবিতে শ্রীলঙ্কাতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ
শেখ তন্ময়ের প্রচারে ব্যাপক সাড়া
বিতর্কিত সাধ্বী প্রজ্ঞা ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শদাতা কমিটিতে
তানোরে ২ স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ, পালিয়ে গেল বর
বিএনপি তিন ধাপে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করবে