প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: খুলনা বিভাগে আসন্ন ঈদুল আজহায় ৭ লাখেরও বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে।

 

 

 

এবার পশু সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং চাহিদার চেয়ে পশুর জোগান বেশি হবে বলে খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

 

 

 

 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কোরবানির জন্য খুলনাঞ্চলের খামারিদের মাধ্যমে নিরাপদ পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 

 

 

 

সুষম খাবার এবং নিয়মিত কৃমিনাশকের ব্যবস্থাসহ পশুপালনের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার জন্য খামারিদের সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। আর এই কারণে গরু উৎপাদনে বিরাট সফলতা এসেছে।

 

 

 

 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আরও জানায়, এ বিভাগে ১০ জেলায় প্রায় ৬ লাখ পশু কোরবানির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

 

 

খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে খুলনায় ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৪টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আরও এক লাখ ২৫ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হবে।

 

 

 

 

খুলনা বিভাগীয় প্রণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদ আহমেদ খান বলেন, খুলনার ১০ জেলায় চাহিদা অনুযায়ী খামারগুলোয় পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু রয়েছে।

 

 

 

 

অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হবেন।

 

 

 

 

তিনি বলেন, খুলনার ১০ জেলায় মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৯ জন খামারি রয়েছেন। ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৪টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

 

 

এর মধ্যে ষাঁড় ২ লাখ ৮০ হাজার ৪৮টি, বলদ ৩১ হাজার ১৫০টি, গাভি ৩৩ হাজার ৩৭৯টি, মহিষ ১৯ হাজার ৩৩টি, ছাগল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৭০টি ও ভেড়া ৯ হাজার ৪৪৩টি। অন্যান্য গবাদি পশু ৬২১টি। এগুলোও কোরবানির পশুর হাটে তোলা হবে।

 

 

 

 

ওই অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদ আহমেদ খান বলেন, প্রতিটি থানার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নে ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ট্যাবলেট ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা যেন করতে না পারে সেজন্য মেডিকেল টিম কাজ করছে।

 

 

 

 

 

সুষম খাবার ও নিয়মিত কৃমিনাশকের ব্যবস্থাসহ পশুপালনের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

 

 

 

 

সংশ্লিষ্টরা জানায়, কোরবানির ঈদে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বেপারিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশুর দরদাম শুরু করছেন। কিনছেনও অনেকে। তবে গোখাদ্যের দাম বাড়ায় পশু লালন-পালনে এবার খরচ আগের তুলনায় বেড়ে গেছে।

 

 

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার খুলনার তেরখাদা, ফুলতলা, রূপসা, দিঘলিয়া ও ডুমুরিয়া উপজেলা, নড়াইলের কালিয়া ও যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুরে খামারের সংখ্যা বেশি। ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত খুলনাঞ্চলের গবাদি পশুর খামার মালিকরা।

 

 

 

সম্পূর্ণ দেশীয় খাবারের ওপর নির্ভর করে পশুগুলোকে কোরবানির উপযুক্ত করে গড়ে তুলছেন তারা। বিশাল আকৃতির গরু এখন খুলনার খামারগুলোতে।

 

 

 

তবে এসব গরু পালনে যে খরচ হয়েছে, ভারত-মিয়ানমার থেকে গরু অনুপ্রবেশে যেন লোকসান না হয় সেদিকে নজর দেয়ার দাবি জানিয়েছে খামারিদের।

 

 

 

 

খুলনার তেরখাদার পূর্ব কাটেঙ্গা এলাকার খামারি রসুল মোল্লা বলেন, কোরাবানিকে সামনে রেখে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ৭টি গরু লালন পালন করেছি।

 

 

 

এবার ভালো দাম পাবেন আশা করি। মানভেদে প্রতিটি গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে।

 

 

 

 

খামারিদের মতে, খুলনাঞ্চলের খামারিরা প্রতিদিন খাবার হিসেবে খৈল, ভুসি, ফিড ও কাঁচা ঘাস খাইয়ে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

সম্পূর্ণ দেশীয় খাবারের ওপর নির্ভর করে পশুগুলোকে কোরবানির উপযুক্ত করে তুলছেন তারা। বাজার মূল্য ঠিক থাকলে ভালো লাভের আশা করছেন তারা।