প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:   জামেয়া মিল্লিয়া আরাবিয়া খাদেমুল ইসলাম মাদরাসা ও এতিমখানাটির অবস্থান খুলনা মহানগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায়। এ মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে চার শতাধিক ছাত্রের বাস। এদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় নির্বাহ করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, যার একটি বড় অংশ আসে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে।

 

 

 

 

 

এ বছর কাঁচা চামড়ার দাম এতটাই কম ছিল যে কাঙ্ক্ষিত অর্থ আয় তো তো দূরে থাক, চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে যে ব্যয় হয়েছে তাও উঠে আসেনি এতিমখানাটির। চলতি অর্থবছরে তহবিল সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাদের।

 

 

 

 

 

একই অবস্থা খুলনা মহানগর ও জেলার শতাধিক মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের। সবখানেই এবার তহবিল সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা সদর ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি বছর এসব মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিং চালাতে হিমশিম খেতে হবে।

 

 

 

 

 

সূত্র মতে, অন্যান্য বছর কোরবানির সময় যে চামড়া বিক্রি হতো হাজার টাকায়, এবার তা বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৫ থেকে ১০০ টাকায়। এ কারণে কেউ বিপাকে পড়ে নামমাত্র মূল্যে চামড়া বিক্রি করেছেন। আবার অনেকেই চামড়া মাটিতে পুঁতে এবং নদীতে ফেলে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসা, দারুল উলুম মাদরাসা, দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা, নেছারিয়া কামিল মাদরাসা, পশ্চিম বানিয়াখামার হাফিজিয়া মাদরাসা ও বসুপাড়া এতিমখানাসহ নগরীর ছোট বড় মাদরাসাগুলোর লিল্লাহ বোর্ডিং পরিচালনায় চলতি বছর তহবিল সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

 

 

 

 

পূর্ব বানিয়াখামার জামেয়া মিল্লিয়ার অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে এতিমখানার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ছাত্রদের লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ার ব্যয়ের একটি বড় অংশের যোগান হতো। কিন্তু এ বছর চামড়া থেকে অর্থ উপার্জন তেমন হয়নি। উল্টো চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে তহবিলের টাকা গচ্চা গেছে।’

 

 

 

 

তিনি আরও জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তার মাদরাসায় ছয় শতাধিক গরু-ছাগলের চামড়া দান করেছেন এলাকার মানুষ। এর মধ্যে ৩৮টি চামড়া ৬ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১৯টি চামড়া মাত্র ৬০০ টাকায় দুই জায়গায় বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি ৫৯৪টি চামড়া খুলনার একটি ট্যানারিতে বাকিতে দিয়েছেন। সেখান থেকে মোটামুটি অর্থ পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এসব চামড়া সংগ্রহ করতে পাঁচ শতাধিক ছাত্র-শিক্ষক মাঠে-ময়দানে কাজ করেছেন। এছাড়া পরিবহনসহ অন্যান্য খাতে বেশ অর্থ ব্যয়ও হয়েছে।

 

 

 

 

 

মাওলানা আব্দুল্লাহ আরও বলেন, আগের বছরগুলোতে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ৩-৪ মাসের ব্যয় নির্বাহ হতো। কিন্তু এবার এক মাসের খরচও উঠবে না।

 

 

 

 

মদিনানগর কওমিয়া মাদরাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. কামাল হোসেন বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে ৭০ জন ছাত্র লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে খাওয়া-দাওয়া করে। যেখানে বছরে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। কোরবানির পশুর চামড়ার অর্থ দিয়ে তাদের ৪-৫ মাস চলত। বিশেষ করে বছরের অন্যান্য সময়ে বাকিতে নেয়া চাল-ডালের অর্থও চামড়ার টাকা দিয়ে পরিশোধ করা হতো। কিন্তু এবার তেমন আয় হয়নি।

 

 

 

 

 

তিনি জানান, ঈদের প্রথম দিন তারা প্রায় ৯৫টি চামড়া সংগ্রহ করেন। যা বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু দ্বিতীয় দিন ১৫টি চামড়া মাত্র একশ টাকায় বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, ছাত্র-শিক্ষক মিলে তাদের ২০ জনের একটি দলের চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন এবং অন্যান্য বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা।

 

 

 

 

 

নগরীর লবণচরার আহমদিয়া এতিমখানা ও মাদরাসার শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনার শেখপাড়া বাজারে চামড়ার দাম নেই। এখানে গরুর পাঁচটি ও ছাগলের একটি চামড়া নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু ছয়টি চামড়ায় মাত্র ৪৫০ টাকা দিয়েছে। যাতে রিকশা ভাড়াও ওঠে না।’

 

 

 

 

 

 

মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। কোরবানির চামড়া বিক্রির টাকার হক থেকে গরিব এবং অসহায়দের বঞ্চিত করা সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে এতিম, গরিব এবং অসহায়দের কাজে লাগানো হয়। চামড়া শিল্পের ক্ষতি মানে তাদের ক্ষতি।