প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:   ভার্চুয়াল জগতে পরিচিত রুদ্র মাহামুদ নামে। বাস্তবে শহিদুল ইসলাম খান। তার ভুয়া ফেসবুক পেজে তিনি বিভিন্ন পোস্টে কানাডা যাওয়ার নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি। ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেন কোটি টাকা।ফেসবুকে তিনি নিজেকে পরিচয় দেন ডিটেকটিভ রুদ্র মাহামুদ নামে। তার কর্মকাণ্ডে যে কেউ তাকে ডিটেকটিভ ভাবতেই পারেন। ভুয়া ফেসবুক পেজে তিনি খুব সহজে কিভাবে কানাডা যাওয়া যায় সেই পথ বলে দেয়। তার অনুসারীর সংখ্যাও বেশ।

 

 

 

 

ফেসবুকে এসব চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে যারা কানাডা যেতে আগ্রহী, তাদেরকেই টার্গেট করেন রুদ্র। যাদের কাছ থেকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা।ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ বলেন, রুদ্র এমনভাবে কথা বলতো, যে কেউই তা বিশ্বাস করতো। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন ভিসা হয়ে গেছে। ভিসা পেলে ৩ লাখ এবং ফ্লাই করার আগে ৪ লাখ টাকা দিতে বলে ছিলেন।

 

 

 

 

আরেক ভুক্তভোগী সুমন বলেন, তার একাউন্ট নম্বর দেয়ার পর তার একাউন্টে মোট তার ৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা দেই।ভুক্তভোগী আরেকজন বলেন, সর্বমোট ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছে। যখন ভিসার জন্য চাপ দেই তখন আমাদের কাছ থেকে আরো টাকা দাবি করেন।কানাডা যেতে ইচ্ছুক এমন লোকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা কামানোই এই চক্রের মূল কাজ।

 

 

 

 

 

প্রতারক চক্রের প্রধান শহিদুল ইসলাম ওরফে রুদ্র বলেন, ফেসবুক পেইজটা ছিলো আরেক জনের। এটা মূলত যার পেইজ তাকে আমি বলেছিলাম বুস্টিং এর পেমেন্ট গুলো দেব। ওইটাতে আমাকে অ্যাডমিনশিপ দিতো। আমি যেভাবে প্রতারিত হয়েছি, আমার আর কোনো পথ ছিলো না। ডোমেইন হোস্টিং এর ব্যবসা দিয়ে আমি কোনো রকম ডালভাত খেয়ে চলতাম, তবে ঋণ দেয়ার অবস্থা আমার নেই।

 

 

 

 

আরেক প্রতারক মিজানুর রহমান বলেন, তিনজন লোকের পাসপোর্ট আমার কাছে এসেছে। তিনজন লোকের টাকা আমি রিসিভ করেছি। ৫০ শতাংশ আমার কাছে ছিলো লাভ হিসেবে। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আমি অ্যাঙ্কেলকে (প্রতারক চক্রের প্রধান) দিয়েছি।

 

 

 

 

মঙ্গলবার এই চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর বিভাগ) এর উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ডাক্তার, শিক্ষক, ভালো ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এরা কানাডা যাওয়ার জন্য এই ফাঁদে পা দিয়েছেন। ৯-৩-১২ লাখ টাকা পর্যন্তও দিয়েছেন।এদিকে, এমন আরো চক্রের সন্ধানে নেমেছে ডিবি পুলিশ। সূত্র ও ভিডিও : ডিবিসি নিউজ