প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:  ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে অভিষেক ঘটেছিল বাংলা ছবির কিংবদন্তী নায়ক সালমান শাহ’র। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন ২৭টি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র।সালমানের অধিকাংশ ছবির নায়িকা ছিলেন শাবনূর। সংখ্যায় যা ১৪টি। একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছিল এই জুটি। সালমান অকালে মারা না গেলে হয়তো আরও সমৃদ্ধ হতো এই জুটির ক্যারিয়ার।

 

 

 

 

তবে সালমানের স্ত্রী সামিরা জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, “শাবনূরের সঙ্গে ১৪টি ছবি করেছিল সালমান। ‘মায়ের অধিকার’ ছাড়া বলা চলে সবগুলো ছবিই সুপারহিট ছিল। শুটিংয়ের সুবাদে দুজনের মধ্যে ভালো একটি সম্পর্কও গড়ে ওঠে। সে নিয়ে অনেক মুখরোচক আলোচনা হতো ফিল্মপাড়ায়। সেসব শুনে আমিও বিরক্ত হতাম। মাঝে মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়েছে। কিন্তু সালমান আমাকে আশ্বস্ত করত সবই গুজব বলে। আমি শেষ পর্যন্ত তাকেই বিশ্বাস করেছি। কারণ সবকিছুর পর, সালমানই ছিল আমার ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ আশ্রয়।”

 

 

 

 

সামিরা আরও বলেন, ‘তবে একটা সময় সালমান সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শাবনূরের সঙ্গে জুটি হয়ে কাজ না করার। সে আমাকে বলেছিল, সবখানেই সালমানের সঙ্গে শাবনূরের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। এটা তাকে মানসিকভাবে প্রেসার দিচ্ছে। সে শাবনূরের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল।’

 

 

 

 

শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সালমানের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক খারাপ হয়। ঝগড়া হয়েছে, সালমান আপনার গায়ে হাতও তুলেছে বলে দাবি করেছেন আমেরিকা প্রবাসী রুবি। এই বিষয়ে আপনার কী বক্তব্য?

 

 

 

 

জবাবে সামিরা বলেন, ‘রুবির কোনো কথাকে আমি গুরুত্ব দিতে চাই না। তার হঠাৎ কার্যকলাপ উদ্দেশ্যমূলক মনে হচ্ছে। তবে সালমানের সঙ্গে শাবনূরকে নিয়ে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে এই কথা মিথ্যা নয়। কিন্তু ওই যে বললাম, সালমানকে আমি বিশ্বাস করতাম।

 

 

 

 

সালমান এখন বেঁচে নেই। সেইসব বিষয় নিয়ে আমি নতুন করে কথা বলতে চাই না। যদি কেউ সালমান ও শাবনূরের কী সম্পর্ক ছিল সেইসব জানতে চায় তবে মামলার তদন্ত অফিসারদের সঙ্গে কথা বলুক। সেখানে শাবনূরেরও জবানবন্দি রয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকার পুরনো নিউজ ঘাঁটলেও শাবনূরের জবানবন্দি পাওয়া যাবে।’

 

 

 

 

তবে এই বিষয়ে জানতে শাবনূরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য মেলেনি। বারবার ফোনে রিং হলেও রিসিভ হয়নি শাবনূরকে দেয়া কল। তার ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

 

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বাঁধেন শাবনূর। প্রথম ছবিতেই ব্যাপক সফলতা পায় এই জুটি। সালমান-শাবনূর জুটির সফলতার দিকে তাকিয়ে পরিচালক প্রযোজকরা একের পর এক ছবিতে নিতে থাকেন তাদের। সালমান অভিনীত ২৭টি ছবির ভেতরে ১৪টি ছবিতেই সালমানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি।

 

 

 

 

 

এভাবেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সবচেয়ে সফল জুটি হিসেবে পরিচিতি পান সালমান-শাবনূর। চারপাশে এ সময় তাদের প্রেমের গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। তবে শাবনূর সবসময়ই এগুলোকে অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।