প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:  বিএনপি নেতাকর্মীদের যেসমস্ত মামলাগুলো বছরের পর বছর আটকে আছে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং তাঁদেরকে আইনের আওতায় আনারও উদ্যোগ নিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।সরকারের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেছেন, ২০০৬-০৭সালে দুর্নীতি দমন কমিশন বিএনপির বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো করেছিল সেই মামলাগুলোর এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। বছরের পর বছর মামলাগুলো পরে আছে। অনেকগুলো মামলা শেষ পর্যায়ে থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞাত কারণে আটকে আছে।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, অগ্নি সংযোগ, আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারাসহ যে সমস্ত মামলাগুলো করা হয়েছিল সেগুলো কেন আটকে আছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদসহ একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করা হয়। এরমধ্যে শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার একটি মামলায় নিম্ন আদালত রায় দিয়েছে।

 

 

 

 

হাইকোর্টে বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড বাড়ানো হয়েছে। মামলাটি এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। আরেকটি মামলাতে বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড হয়েছে। এছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো মামলাসহ অন্তত ১৪টি মামলা অত্যন্ত ধীরগগিতে চলছে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেবে সরকার।

 

 

 

 

তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলায় তারেক হাইকোর্ট থেকে দণ্ডিত হয়েছেন। ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন অবস্থায় আছে। যে মামলাগুলো এগুচ্ছে না।

 

 

 

 

বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাটি শেষ পর্যায়ে থাকলেও মামলাটি সাম্প্রতিক সময়ে এগুচ্ছে না। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিবে বলে একাধিক সূত্র বলছে।

 

 

 

 

 

অন্যদিকে ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধেও একাধিক দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন আছে। সে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেব্যাপারে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

 

২০০১৩-১৪সালে বিএনপি সারাদেশে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, গাড়ি পোড়ানো, আগুনে মানুষ পোড়ানোসহ বিভিন্ন সন্ত্রাস, নাশকতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। এর হুকুমদাতা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এদেরমধ্যে বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছিল কিন্তু সে মামলাগুলোও এগুচ্ছে না।

 

 

 

 

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে যে, দীর্ঘদিন মামলাগুলো নিশপত্তি না হওয়ার ফলে বিরোধীদল বারবার নানারকম নাশকতা এবং অপততপরতা করার সুযোগ পাচ্ছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এ জন্যই সরকারের উর্ধতন মহলের একটি বৈঠকে যে সমস্ত মামলাগুলোর বিচারের জন্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তালিকা অনুযায়ী মামলাগুলো যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

 

 

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ যখন নিজের দলেই যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, অপকর্মের বিরুদ্ধে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে তখন বিএনপির ক্ষেত্রে পদক্ষেপে ব্যাপক জনসমর্থন পাবে। অবশ্য বিএনপি মনে করছে, এসব মামলা ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যমূলক এবং বিএনপিকে হয়রানি করার জন্যই ছাত্রলীগ, যুবলীগের উপর তথাকথিত একশন দেখানো হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিএনপির উপর আক্রমণ করা।

এই বিভাগের আরো খবর :

আদালতে খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মহাসমারোহে বাংলা বর্ষবরণ
অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান এবার তিস্তা সমস্যাসহ
হামলাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছি : জাফর ইকবাল
প্রাক-প্রাথমিকে এক লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ
কারাগারে দাঙ্গা ভেনিজুয়েলায়, নিহত ২৫...
ঈদযাত্রা শুরুর আগেই ২০ কিলোমিটার যানজট
যেভাবে উত্থান হয় যুবলীগ নেতা ‘ল্যাংড়া’ খালেদের
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যেমন ছিল তেমনই আছে: বার্নিকাট
অপরাধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দুই হাজার বিদেশি
গাজায় ২ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত
মেহেরপুরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১১ জন আহত
কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সভা ঘোষণা
আজ গণঅভ্যুত্থান দিবস