প্রথমবার্তা প্রতিবেদক: টেলিভিশন খুললেই একসময় যাদের মুখ দেখা যেত তারাই আজ যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। বলছি একসময়ের জনপ্রিয় কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কথা। যাদের জন্য সোনালি যুগ ছিল বিটিভির দিনগুলি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই হয়তো পাড়ি জমিয়েছেন দেশের বাইরে। পর্দার আড়ালে থেকেই যেন তারা এখন স্বাছন্দ্যবোধ করেন। আসুন জেনে নেই সেই সোনালি যুগের সেই অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কোথায়, কি করছেন।

 

 

 

 

 

শমী কায়সার : কালে ভদ্রে অভিনয়ে দেখা গেলেও একেবারেই অনিয়মিত নব্বই দশকের জনপ্রিয় তারকা শমী কায়সার। ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন অভিনয় থেকে। তিনি এখন ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। সংগঠন ও রাজনীতি নিয়েই এখন ব্যস্ত। ‘যুদ্ধশিশু’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করআর কথা থাকলেও পরে ওই ছবিতেও আর নিজেকে জড়াননি তিনি।

 

 

 

 

 

 

বিপাশা হায়াত : দর্শক গ্রহণযোগ্যতায় মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন নব্বই দশকের আরেক জনপ্রিয় ও দক্ষ অভিনয়শিল্পী বিপাশা হায়াত। স্বামী তৌকীর আহমেদ পর্দার সামনে-পেছনে কাজ করলেও বিপাশা কাজ তেমন করছেন না। খুব কমই তাকে পর্দায় দেখতে পাওয়া যায়। অভিনয়ের চেয়ে চিত্রশিল্পের দিকেই তার আগ্রহ বেশি এখন। পাশাপাশি নাট্য রচনাও করেন। কিন্তু অভিনয়ের খবরের শিরোনামে তাকে এখন আর দেখা যায় না।

 

 

 

 

 

 

রোমানা : মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও নাটকে সরব ছিলেন টিভি পর্দার দাপুটে অভিনেত্রী রোমানা। ‘এক টাকার বউ’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। এরপর আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু সফলতা পাননি। ক্যারিয়ারের মাঝপথে রোমানা প্রথম বিয়ে করেন উপস্থাপক ও নির্মাতা আনজাম মাসুদকে। আনজামের সঙ্গে সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি বিয়ে করেন সাজ্জাদ নামের ঢাকার এক ব্যবসায়ীকে। কিন্তু ধীরে ধীরে রোমানা-সাজ্জাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদেরও বিচ্ছেদ ঘটে। এর পরপরই রোমানা দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর ব্যবসায়ী এলিন রহমানের সঙ্গে তার পরিচয়। ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনা হলে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন রোমানা।

 

 

 

 

 

 

শীলা আহমেদ : জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কন্যা অভিনেত্রী শীলা আহমেদ। টেলিভিশনে আগমন তার বহুব্রীহি নাটকে শিশু অভিনেত্রী চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘ওইজা বোর্ড’ ‘নিমফুল’ নাটকে তার অভিনয় এখনো দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আজ রবিবার নাটকের পর থেকে তাকে আর অভিনয়ে দেখা যায়নি। শীলা ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও কলাম লেখক আসিফ নজরুলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

 

 

 

 

 

 

টনি ডায়েস : বিটিভি যুগীয় সময়ের একজন দুর্দান্ত অভিনেতা-নির্দেশক টনি ডায়েস। ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি চার শতাধিক নাটক, ধারাবাহিক আর টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। এছাড়া তিনি কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বর্তমানে মেয়ে অহনা এবং স্ত্রী প্রিয়া ডায়েসসহ নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হিকসভিল শহরে বসবাস করছেন তিনি। মাঝে মাঝে এখন অভিনয়ও করছেন।

 

 

 

 

 

শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি : আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি। ‘বাংলালিংক দেশে’র বিজ্ঞাপন দিয়ে রাতারাতি পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। একে একে নাটক, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনে কাজ করে নিজের অবস্থান বেশ পাকাপোক্তই করে নিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বেশি আলোচিত ছিলেন। মাঝে নাটকে দেখা গেলেও নিয়মিত হননি আর। জানা যায়, বর্তমানে একমাত্র মেয়ে ওয়ারিশাকে নিয়ে কানাডার মন্ট্রিলে রয়েছেন।

 

 

 

 

 

আদিল হোসেন নোবেল : বাংলাদেশের মডেলিং অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও সুদর্শন মডেল নোবেল। জীবনে সবক্ষেত্রেই পেয়েছেন ঈর্ষণীয় সাফল্য। বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু নাটকেও অভিনয় করেন নোবেল। সাধারণত বিশেষ দিবসের নাটকে নোবেলকে দেখা যায়। নোবেল রবির করপোরেট অ্যান্ড এসএমই সেলস ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি বহুজাতিক কোম্পানি ‘কোটস বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন।

 

 

 

 

তনিমা হামিদ : তনিমা হামিদ অভিনয় শুরু করেছিলেন তিন বা চার বছর বয়সে। ব্যক্তিগত জীবনে তনিমা হামিদ সংবাদ উপস্থাপক শামসুদ্দিন হায়দার ডালিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাদের সংসারে ‘অরনিভ’ নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন হলো আর অভিনয়ে নেই।

 

 

 

 

পল্লব চক্রবর্তী : এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা পল্লব। বিটিভিযুগীয় সময়ে হয়েছেন অসংখ্য কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপনের মডেল। মডেলিং থেকে উঠে আসা পল্লব এরপর একে একে অভিনয় করেছেন অসংখ্য প্যাকেজ নাটকে। ২০১৪ সালে তিনি ‘হঠাৎ দেখা’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরেন। তবে অভিনয়ে নিয়মিত নন।

 

 

 

 

সাবরিনা সাকা মীম : নতুন কুঁড়ির চ্যাম্পিয়ন মীম। নাচ, গান, অভিনয়- তিনটিতেই সেরা। টিভি নাটক, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে প্রায়ই দেখা যেত তাকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় সাবরিনা সাকা মীমের গতিপথ। মীম এখন গৃহবধূ। পেশা হিসেবে ‘আরটিভি’তে কর্মরত আছেন সংবাদপাঠিকা হিসেবে।

 

 

 

 

 

ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী : অভিনেত্রী ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী। এই শতকের শূন্য দশকে শ্রাবন্তী টিভি নাটকে ছিলেন জনপ্রিয়। বেশ কয়েকটি টিভিসি তাকে এনে দিয়েছিল আরো বেশি জনপ্রিয়তা। রং নম্বর’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে এই টিভি অভিনেত্রীর অভিষেক হয় চলচ্চিত্রে। কিছুদিন আগে তার স্বামী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকে ও এনটিভি’র সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সাথে ডিভোর্স হয়। শ্রাবন্তী’র দুই মেয়ে। সাত বছরের মেয়ে রাবিয়াহ আলম ও সাড়ে তিন বছরের আরিশা আলম।