6 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:   শেষ রক্ষা হল না যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের। একের পর এক ক্যাসিনোতে অভিযান ও গ্রেফতারের পর নিজেকে রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে ভারতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন সম্রাট।

 

 

 

 

 

আর এজন্য সহযোগী ও যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানসহ ৩ দিন আগে আশ্রয় নিয়েছিলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে। ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরের এ গ্রামটি জামায়াত-অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত।

 

 

 

 

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ভারতে পালিয়ে যেতেই সাবেক শিবির নেতা ও উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতা মনির চৌধুরীর এ বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

 

 

 

 

 

তবে সম্রাট ৩ দিন ধরে ‘চৌধুরী বাড়ি’তে থাকলেও প্রতিবেশী বা স্থানীয়রা কিছুই জানতেন না বলে জানান। তারা জানতেন, ঢাকা থেকে জামায়াতের কোনো শীর্ষ নেতা মনির চৌধুরীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন।

 

 

 

 

স্থানীয় আলকরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম গোলাম ফারুক বলেন, যে বাড়ি থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব সেটি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতা মনির চৌধুরীর। তিনি ফেনী পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা ও স্টারলাইন পরিবহনের মালিক হাজী আলাউদ্দিনের ভগ্নিপতি এবং স্টারলাইন পরিহনের পরিচালক।

 

 

 

 

গোলাম ফারুক আরও বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে প্রথমে র‌্যাবের ৭-৮টি গাড়ি ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ১০-১২টি গাড়ি মনির চৌধুরীর বাড়ির পাশে অবস্থান নেয়। রোববার ভোর ৫টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা সম্রাট ও তার এক সহযোগীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান।

 

 

 

 

 

পাশের বাড়ির লোকজন বলেন, মনির চৌধুরী ফেনীতে থাকলেও তার বোন নাজু চৌধুরী ও বৃদ্ধা মা এ বাড়িতেই থাকেন। মনির বাড়িতে না এলেও গত ১৫-১৬ দিন ধরে প্রতিদিনই বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। গাড়ি ভরে বাজার নিয়ে আসতেন। আশপাশের লোকজন অনুমান করছিল, বাড়িতে কোনো মেহমান আছে।

 

 

 

 

বাড়ির মালিক জামায়াত নেতা মনির চৌধুরীর বোন নাজু বেগম বলেন, র‌্যাব যাদের ধরে নিয়ে যায় তারা ৩ দিন আগে এ বাড়িতে আসেন এবং দোতলার একটি কক্ষে থাকতেন। সেখানেই তাদের খাবার দেয়া হতো। তারা কখনও বাসার বাইরে বের হতেন না। আমাদের বলা হয়, তারা বেড়াতে এসেছেন।

 

 

 

 

নাজু বেগম আরও বলেন, ৩ মাস আগে আমার ভাই বাড়িটি বানান। অভিযানের সময় ভাই বাড়িতে ছিলেন। তবে ভাই মুনির চৌধুরী জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে এখন সক্রিয়ভাবে জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন।

 

 

 

 

 

প্রতিবেশী আবুল কালাম ও রমজান আলী মিয়া জানান, মনির চৌধুরী জামায়াতের সক্রিয় নেতা। এলাকায় তিনি পাঞ্জা-ছক্কা নামে পরিচিত। মাঝেমধ্যে কালো রঙের গাড়িতে করে বিভিন্ন লোকজনকে বাড়িতে নিয়ে আসতেন। কখন আমরা জানতাম না। সহযোগীসহ সম্রাট ওই বাড়িতে এলেও আমরা জানতাম মেহমান এসেছেন।চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, অভিযানের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য ছিল না।

 

 

 

 

 

কে এ মনির চৌধুরী : ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের আত্মগোপনে থাকা বাড়ির মালিকের নাম মনির চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের শীর্ষ নেতা ছিলেন। তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিবিরের সাথী ছিলেন এবং বর্তমানে ফেনী জামায়াতের প্রশাসনিক বিভাগের দায়িত্বে আছেন।

 

 

 

 

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের অভিযোগ, মনির চৌধুরী স্থানীয়দের সঙ্গে তেমন মিশতেন না। রাতে কালো গ্লাসের গাড়ি নিয়ে বাড়ি আসতেন এবং চলে যেতেন। বিভিন্ন সময় তার বাড়িতে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক বসত। স্থানীয় পুলিশকে জানালেও কোনো কাজ হতো না। কারণ তিনি নিজেকে ফেনীর মেয়র হাজী আলাউদ্দিনের ভগ্নিপতি ও সম্রাটের ভগ্নিপতি পরিচয় দিতেন।