11 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:   বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবরার ফাহাদ রাব্বীকে প্রথম আঘাতটি করেন আসামি মো. মেহেদী হাসান রবিন। তিনি শিবির সন্দেহে ধরে আনার পর আবরারের মুখে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। এরপরই ক্রিকেট স্টাম্প ও রশি দিয়ে আবরারের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করেন অন্য আসামিরা।

 

 

 

 

 

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য দেন রবিন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেন আসামির স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আসামি আদালতে এ স্বীকারোক্তি দেন। স্বীকারোক্তি রেকর্ড শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

 

 

 

স্বীকারোক্তিতে মেহেদী হাসান রবিন বলেন, শিবির সন্দেহে আবরারকে তার ১০১১ নম্বর রুম থেকে ডেকে আনা হয়। আবরার কোনো কথা স্বীকার করছিল না। এ সময় তাকে আমি কয়েকটি থাপ্পড় মারি। এরপর অন্যরা (বাকি আসামিরা) আবরারকে ক্রিকেট স্টাম্প ও রশি দিয়ে মারে।

 

 

 

 

আবরার ওপর নির্যাতন চলাকালে আমি কয়েক দফা ওই রুম থেকে বের হই। আবার ওই রুমে ফিরে আসি। ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়ন, মো. অনিক সরকার ওরফে অপু ও মো. মোজাহিদুর রহমান (চারজনই আসামি) আবরারকে সরাসরি ক্রিকেট স্টাম্প ও রশি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আবরার।

 

 

 

 

এর আগে আসামি ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়ন, মো. অনিক সরকার ওরফে অপু ও মো. মোজাহিদুর রহমান আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে তারা রবিনের নাম প্রকাশ করেন।

 

 

 

 

১৩ নভেম্বরের আগেই তদন্ত শেষ হবে : সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আদালত চার্জশিট দেয়ার দিন ১৩ নভেম্বর ধার্য করে দিয়েছেন। আশা করছি এর আগেই তদন্তকাজ শেষ হবে। এরপর চার্জশিট দেয়া হবে।

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আবরার হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ১৫ জন ও এজাহারবহির্ভূত ৪ জনসহ মোট ১৯ গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজনের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এসেছে যে, তারা শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে মারধর করছিলেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, কারও কারও জবানবন্দিতে এসেছে আবরার ফাহাদকে কয়েক ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়েছে। শুধু শিবির সন্দেহেই আবরারকে মারা হয়েছে বা হত্যার উদ্দেশ্যেই তাকে মারা হয়েছে কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বাকি আসামিদের জবানবন্দি, তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে আবরারকে কেন মারা হয়েছিল সেটি নিশ্চিত হতে হবে।

 

 

 

 

 

ঘটনার রাতে বুয়েটে পুলিশের কোনো টহল টিম ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত ৩টা পর্যন্ত বুয়েট এলাকায় পুলিশের একটি টিম টহল দেয়। কিন্তু তারা এ সময় কোনো হইচইয়ের শব্দ পায়নি।’

 

 

 

 

 

প্রসঙ্গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। পরদিন ৭ অক্টোবর আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ১৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে চকবাজার থানায় মামলা করেন।