6 / 100 SEO Score

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:   মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ীতে একজন ভিআইপির (যুগ্ম সচিব) অপেক্ষায় প্রায় দুই ঘণ্টা ফেরি আটকে রাখার কারণে অসুস্থ স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হবে ১৪ নভেম্বর।

 

 

 

 

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) এ দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

 

 

 

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দুই বিবাদীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও এএম আমিন উদ্দিন।

 

 

 

 

 

স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় এক নম্বর ফেরিঘাটের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরাসরি দায়ী করে গতকাল বুধবার (৬ নভেম্বর) হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এতে সরকারের এটুআই  প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলকেও পরোক্ষভাবে দায়ী করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

বলা হয়েছে, ফেরি আটকে রাখা এবং ফেরিতে অ্যাম্বুল্যান্সে মুমূর্ষু রোগী থাকার কথা তিনি জানতেন না। এ কারণে তাঁকে সরাসরি দায়ী করা যায় না। তবে তিনি ঘাট ব্যবস্থাপককে দীর্ঘ সময় আগে থেকেই পারাপারের জন্য বার্তা দিয়ে এবং তাঁর সঙ্গে বারবার ফোনালাপের মাধ্যমে একটা দায়ভার সৃষ্টি করেছিলেন।

 

 

 

 

 

সর্বোপরি নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ফেরিঘাটে উপস্থিত হওয়া এবং তাঁর জন্যই ফেরি অপেক্ষমাণ রাখায় এ ক্ষেত্রে তাঁরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

 

 

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার বণিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির এই প্রতিবেদন গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার এটি উপস্থাপন করা হয়।

 

 

 

 

প্রতিবেদনে যে চারজনকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে তাঁরা হলেন- ঘাট ম্যানেজার সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া, উচ্চমান সহকারী ও গ্রুপ প্রধান ফিরোজ আলম এবং ইনল্যান্ড মাস্টার সামছুল আলম। তাঁদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে দায়ী করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রেজাউল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির পৃথক একটি প্রতিবেদন গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাইকোর্ট গত ২৩ অক্টোবর এক আদেশে এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

 

 

 

 

গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় কাঁঠালবাড়ী এক নম্বর ফেরিঘাটে প্রায় দুই ঘণ্টা ‘কুমিল্লা ফেরি’ আটকে রাখা হয়। এতে ঘাটে আটকে পড়া স্কুলছাত্র তিতাসকে বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স পার করার জন্য বারবার অনুরোধ জানালেও ফেরি ছাড়া হয়নি। ফলে অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু হয় তিতাসের।

 

 

 

 

 

 

ওই ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে তিতাসের পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমনের করা রিট আবেদনে গত ৩১ জুলাই এক আদেশে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।