প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:কষ্টের জীবনের অবসান ঘটার আগেই চলে গেলেন শুকুর দেওয়ান (৭৫)। সুখের আলো জ্বলে ওঠার আগেই অসহায়ত্ব জীবনের একমাত্র সঙ্গী স্ত্রীকে রেখে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামে বাস করতেন শুকুর দেওয়ান। এক সময়ের সম্পদশালী শুকুর প্রতারণায় পড়ে নিঃস্ব হয়ে যান। তখন ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয় স্বজন কারও কাছেই তার ঠাঁই হয় না তাই ৬৩ বছর বয়সী স্ত্রী সহুরা বেগমকে নিয়ে অন্যের গোয়ালঘরেই মানবেতর জীবনযাপন শুরু করতে হয়েছিল তাকে।

 

 

 

 

 

অসহায় এই দম্পতির মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে ২৫ অক্টোবর দৈনিক যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫ দিন আগে দুর্যোগ সহনশীল একটি ঘর নির্মাণ শুরু করা হয়। ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই দম্পতিকে প্রতিবেশী শাহজাহান মিয়া আশ্রয় দেন।কিন্তু নিজেদের নতুন ঘরে আর ওঠা হল না শুকুর দেওয়ানের। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রতিবেশী শাহজাহানের ঘরেই অসুস্থ অবস্থায় ৭৫ বছর বয়সী শুকুর দেওয়ানের মৃত্যু হয়।

 

 

 

 

 

একসময় কাউখালী গ্রামে বেশ জমিজমার মালিক ছিলেন শুকুর দেওয়ান। এক ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে ছিল তাদের সাজানো সংসার। কিন্তু হঠাৎ তাদের জীবন কালো ছায়া ডেকে যায়। আর এর কারণ ছিল জমি।স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই বছর আগে অসুস্থ শুকুর দেওয়ানকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে ছেলে নূর হোসেন প্রতারণা করে ১ দশমিক ৬০ একর জমি নিজের নামে লিখে নিয়েছিল। কিন্তু সেই জমি আর বেশিদিন ভোগ করতে পারেনি নূর হোসেন।

 

 

 

 

 

কারণ, কিছুদিন পরই বাবা শুকুর দেওয়ান ও বোন খাদিজা মামলা করে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে। মামলা-মকদ্দমা চালাতে হিমশিম খেয়ে এক বছর আগে নূর হোসেন স্থানীয় জসিম ও মফিজের কাছে সেই জমি বিক্রি করে দেয়। আর সেই দলিলের সাক্ষী ছিল শুকুর দেওয়ান নিজেই। এর কিছুদিন পর লাপাত্তা হয়ে যান নূর হোসেন।

 

 

 

 

 

শুরু হয় শুকুর দেওয়ানের জীবনের দুঃখ গাঁথা গল্প। জমির মালিক জসিম ৬ মাস আগে বাধ্য করে শুকুর ও তার স্ত্রী সহুরাকে ঘর ছাড়া করতে। পরে নিজের ঘর ছেড়ে কিছুদিন মেয়ে খাদিজার বাড়িতে আশ্রয় পায়। কিন্তু সেই আশ্রয় বেশিদিন জোটেনি তাদের কপালে। মামলা-মকদ্দমা করে দুই মাস আগে জসিম ও মফিজের কাছ থেকে জমি দলিল করে নেয় শুকুর দেওয়ানের মেয়ে খাদিজা ও ভাই তাজেম দেওয়ানের পুত্রবধূ জাহানারা।

 

 

 

 

 

পরে আর বাবা-মাকে ঠাঁই দেয়নি খাদিজা। তাই এক মাস আগে প্রতিবেশী ইব্রাহিম হাওলাদারের পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে বসবাস শুরু করেছিলেন শুকুর দেওয়ান ও তার স্ত্রী সহুরা বেগম। অসুস্থবস্থায় তাদের কষ্টকর জীবন যাপন দেখে স্থানীয় লোকজন তিনবেলা খাবার-দাবার দিত।

 

 

 

 

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, অসহায় দম্পতির নিউজটি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নজরে পড়লে স্যার আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে আমি তাদেরকে তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা দেই এবং বসবাসের জন্য উপজেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে নতুন একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।

 

 

 

 

 

সে অনুযায়ী ঘরটি নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। কিন্তু সেই মুহূর্তে শুকুর দেওয়ানের মৃত্যুর খবরে আমরা ব্যথিত হয়েছি। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তার দাফন কাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসেছি। শুকুর দেওয়ানের স্ত্রীকে ও যিনি শুকুর দেওয়ানকে দেখাশোনা করেছেন, তাকে খাস জমি দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।